বৃহস্পতিবার, ১লা জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ই পৌষ, ১৪৩২

বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বর্তমানে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশি অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই রিজার্ভের পরিমাণ ডলার কিনে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার তৈরি করেছে। এর আগে, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার পার করেছিল, এবং ২০২১ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত সময়ে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়, রিজার্ভ কমে গিয়ে মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

অন্যদিকে, চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কাটাতে ব্যাপক সাহায্য করেছে। এই সময়ে শুধুমাত্র ৩০৪ কোটি ডলার দেশে এসেছে। গত বছর আগস্টে সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে, যা চলতি মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় রেকর্ড হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত একক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর আবারও চলমান মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩৩০৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় ছিল ২৩৯১ কোটি ডলার। এই প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধির ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, এবং এরপর বিদেশি ঋণও প্রবাহিত হচ্ছ। গত মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব মতে রিজার্ভ এখনও ২৮৫১ কোটি ডলারে স্থির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, একই দিন সাতটি ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিলামের মাধ্যমে কিনেছে, যেখানে প্রতি ডলার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এই ডলার ক্রয় মাথায় রেখে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩১৩ কোটি ডলারের মতো ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিসেম্বর মাসে এককভাবে ১ বিলিয়ন ডলার বেশি ডলার কেনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এটি সরকারের নিজস্ব স্টেক থেকে ডলার ক্রয় করে সম্ভব হয়েছে, যেখানে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ঋণের প্রভাব নেই। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য একান্তই ভালো।”

পোস্টটি শেয়ার করুন