রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে পৌষ, ১৪৩২

তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বেইজিং

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহরণের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এই ঘটনার পর থেকে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দেশটিতে চীনের বৃহৎ বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোকে আটক করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, গোটা বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপুর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞান অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উনবিংশ শতাব্দীর মনরো মতাদর্শের ভিত্তিতে পশ্চিম গোলার্ধকে একচ্ছত্র মার্কিন প্রভাবের আওতায় আনার জন্য কাজ করছেন। তার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতেও এই উদ্দেশ্য স্পষ্ট, যেখানে ইউরোপের পরিবর্তে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় জোর দেওয়া হয়েছে। ঐ নীতির অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পশ্চিম গোলার্ধ চায়, যা দেশীয় শক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব থেকে মুক্ত। হোয়াইট হাউসের সূত্রে জানা গেছে যে, ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের শর্ত আরোপ করেছে, তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। চীন এই অপহরণকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে ভেনিজুয়েলায় সরকার পতনের জন্য আনা পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিমোনা গ্রানো মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনাটি চীনের জন্য এক ধরনের দ্বৈত সংকেত দেয়। একদিকে, লাতিন আমেরিকায় চীনের অবস্থান দুর্বল হচ্ছিল, অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব বলয়’ প্রসারিত হওয়ার ফলে, এশিয়ার অঙ্গনে, বিশেষ করে তাইওয়ানের প্রশ্নে, চীনের অবস্থান আরও জোরদার হতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের কথাও বলে এসেছে। যদিও আপাতত সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম থাকলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ভেনিজুয়েলা পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের تلك প্রশ্নে নতুন যুক্তি সরবরাহ করতে পারে। এদিকে, এই ভেনিজুয়েলা ইস্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেক নেটিজেন সেখানে তাইওয়ানের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার তুলনা করে বলেছেন, শক্তিশালী রাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকা খুবই কঠিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনিজুয়েলায় মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। তবে এটাও স্পষ্ট, এখন লাতিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ অবশ্যই বেশি রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায়, বেইজিং এই অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা না করে, ঝুঁকি কমানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন