রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে পৌষ, ১৪৩২

খুনিরা চেনেন মুছাব্বির, পাঁচজনের কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, কারণ প্রত্যక్షদর্শীরা জানান, খুনিরা তার পরিচিত। পুলিশ বলছে, ওই কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেন। এই হত্যাকাণ্ড পেশাদার ও ভাড়াটে শুটার দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেলের পাশে একটি গলিতে মুছাব্বিরের উপর গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাসংক্রান্ত আরও একজন, তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী, গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরে তদন্তের জন্য বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র‌্যাব ও অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কতার সাথে তদন্ত চালাচ্ছে।

সুরতহাল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মুছাব্বিরের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি ছিদ্র, ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটি গর্ত এবং বাম হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গুলির আঘাতে সে পড়ে গিয়ে এ জখম লাভ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী মন্টু বলেন, ‘গুলির আওয়াজ শোনার দুই-তিন সেকেন্ড পরে দেখি, মুছাব্বির ভাই দৌড়াচ্ছেন। সে বলছিলেন, ‘তোরা করলিডা কি আমারে?’ কথাগুলো বলার সময় তিনি একটু সামনে গিয়ে পড়ে যান। আমি দ্রুত তার কাছে গেলাম এবং বললাম, ‘আমাকে তোরা হাসপাতালে নিয়ে চল।’ এরপর আর তার সঙ্গে কথা হয়নি। মন্টু তার মাথায় পানি দেন ও কিছুটা পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন, তবে সে পানিতে পারছে না।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য বা কারণ সম্পর্কে তদন্ত এখনও চলছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘আমরা দেখছি, এই ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজি, ফার্মগেটে গ্যারেজ দখল ও রাজনৈতিক কোন্দলের বিষয়গুলো জড়িত থাকতে পারে।’

গোয়েন্দাদের সূত্র মতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ হলো স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এই দুটি বিষয় নিয়ে বিএনপি, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা–নেত্রীরা বেশ কিছু সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা যায়, কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। ত্রিশালার ভেতরে অস্ত্রধারী তিনজন সরাসরি গুলি চালায়, আর মূল সড়কে দুজন মোపైয়াভাবে মোবাইল পর্যবেক্ষণ করছিল। গোয়েন্দারা বলছেন, এরা সবাই পেশাদার ভাড়াটে শুটার, যারা স্থানীয় নয়।

ঘটনার পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ মিলন ও যুবদলের সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিলনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ফারুক এখনও আটক রয়েছে। র‌্যাবও রনি ও মন্টু নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তবে, তেজগাঁও থানা পুলিশও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

এছাড়া, পলাতক থাকায় পুলিশ আবদুর রহমানকে খুঁজছে, যিনি তেজগাঁও যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব। ঘটনাক্রমে, এই সময় থেকে তিনি ও তার অনুসারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন