বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষ্যে আজ (১২ জানুয়ারি, সোমবার) সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। এই arrival-এ দীর্ঘ কয়েক মাস পরে ঢাকার মার্কিন মিশনে একজন পূর্ণাঙ্গ প্রধানের পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এই সফর এবং দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তার কূটনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। প্রথমদিকে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রচার অনুবিভাগের প্রধান নূরুল ইসলামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ন সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি), তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) পেশ করবেন। পরিচয়পত্র প্রদান শেষে তিনি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বসহ প্রেসিডেন্টের সম্মতি পেয়ে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক মর্যাদা ও ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।
অতীতে, গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নবনিয়ুক্ত এই রাষ্ট্রদূতের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণের পর, ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি বার্তায় তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানায়। উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তাঁর পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণে এদেশে বেশ পরিচিত — ১৭তম রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।
নিজের ফিরে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করে ক্রিস্টেনসেন বলছেন, তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং পরিবেশ খুব ভালোভাবে পরিচিত। আবারও এই জনপদে ফিরে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরও জানান, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের দক্ষ দল নিয়ে তিনি বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সুদৃঢ় করতে চান। তার মূল দায়িত্ব হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্লোবাল লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন ও নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশের সহযোগিতা জোরদার করা।
বর্তমানে তাঁর এই নিয়োগের খবর দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।
