বুধবার, ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

এলডিপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রতীক্ষী পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া অংশবিশেষ) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। চন্দনাইশের দোহাজারি এলাকায় দলের শীর্ষস্থানীয় দুই শতাধিক নেতা ও কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এই দলবদলের অনুষ্ঠান সোমবার দোহাজারির রূপনগর কমিউনিটি সেন্টারে বিশাল আকারে অনুষ্ঠিত হয়। সদলবলে এলডিপির নেতাকর্মীরা ফুলের শুভেচ্ছায় এবং উষ্ণ আতিথেয়তায় সংবর্ধিত হন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। এই যোগদান ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রাণচঞ্চলতা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এলডিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দোহাজারি পৌরসভা এলডিপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সবুর এবং গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকের মাওলা। তাঁদের নেতৃত্বে বিশাল এক লবিং ও মিছিল বের হয় এবং সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয় ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজারো কর্মী-সমর্থক। এই সময় পুরো এলাকায় ধানের শীষের নেতাকর্মীদের স্লোগান শোনা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বড় ধরনের এ যোগদান চন্দনাইশের ভোটারদের মনে ধানের শীষের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করবে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই দলবদল ধানের শীষের জন্য গণজোয়ারের এক শক্তিশালী প্রকাশ। তিনি আরও বলেন, মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছেন যে দেশের মুক্তি শুধুমাত্র বিএনপির মাধ্যমে সম্ভব, তাই সবাই এক হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি সেই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই আসনটি তাঁকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। লায়ন হেলাল উদ্দিনও নবাগত নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে দলের সংগঠনিক শক্তির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে চন্দনাইশ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী এমএ হাশেম রাজু, অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন ও নুরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা বক্তব্যে বলেন, এলডিপির বিশাল জনশক্তির অন্তর্ভুক্তি মাঠের নির্বাচনি কার্যক্রমে নতুন গতি যোগ করবে। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া অংশবিশেষে বিএনপির জয় কার্যকর হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোঝা যায়, বিএনপির সংগঠনিক শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য বড় একটি সংকেত।

পোস্টটি শেয়ার করুন