বুধবার, ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

তারেক রহমান: তৃণমূল থেকে দলের শীর্ষ নেতার পরিচয়

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক পথচলা শুরু করেছে। সাম্য, সৌজন্য এবং সম্পর্কের সম্মান—এই তিন মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তিনি দলের হাল ধরেছেন। কাঁধে তুলে নিয়েছেন তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, যাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ৪০ বছর ধরে তার পরিবার দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি দেশের রাজনীতির সংস্কৃতিতে এক নতুন দিশার স্বাদ আনছে। তার উপস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং মানুষের প্রতি সম্মান, প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা।

গত ২৫ ডিসেম্বর, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি পেছনে ফেলে ইতিবাচক এবং গন্তব্যমুখী রাজনীতির নতুন নজির স্থাপন করেছেন। রাজনীতির জাদুকর হিসেবে তিনি দেশের সব মানুষের একজন নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন।

১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী। বহু প্রতিকূলতা পার করেও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পূর্বে, তিনি গৃহবন্দির এড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন কীভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে একতরফা করার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল। এরশাদ সরকারের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সময়ে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন, এরপর তৃণমূলের সংগঠন গড়ে তুলে দলের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন, যাতে দলের অনুপ্রেরণা বাড়ে। সেই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বে বিজয় লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়।

বিএনপির গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জেলা পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন এবং দলকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি চলমান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ২০০১ সালে নির্বাচনি প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেন, যেখানে তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা পরিচালনা করেন—এর ফলে ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত হয়। এর পাশাপাশি, তিনি দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করার জন্য কোনো লাভের আশা না করে, নিজের মূল লক্ষ্যে ফোকাস করেন। ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তিনি সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

২০০৫ সালে তিনি উপজেলাগুলোর সম্মেলন আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন, যেখানে তিনি জনস্বার্থে বিভিন্ন আধিকারিক পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন। তিনি কৃষকদের ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা, পরিবেশ রক্ষা, নারীর শিক্ষার জন্য আলাদা কর্মসূচিতে জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন।

২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের অধীনে সেনাসমর্থিত শাসনের সময় তার বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু হয়। মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, হেনস্থা—সবকিছুও তিনি মোকাবিলা করেন। দেশে ফিরে আসার পর আবারও বাধা দেওয়া হয়। মোছলাদ্দার ওয়ান ইলেভেনের প্রভাবশালী সরকার এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন দল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা মামলা চালায় এবং কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশের বাইরে থাকলেও দলের কার্যক্রমে তিনি সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকেন। ২০১৮ সালে তাঁর মা খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে, তিনি দলের দায়িত্ব নেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যান।

তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি মনে করেন, তার চিন্তা ও দর্শন মূলত জিয়াউর রহমানের মতো। তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানভিত্তিক চিন্তা বাংলাদেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বিএনপির নেতৃত্বকে সঠিক পথে রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন তার নতুন নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন