বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ই মাঘ, ১৪৩২

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কখনোই ম্যাচ জেতেনি, এমন দলের কাছে হারল সিটি

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ের ক্লাব

বোদো গ্লিম্ট। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো ম্যাচ না জেতা দলটি নিজেদের

মাঠে শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। বুধবার সকালে

অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে

নরওয়েজিয়ান ক্লাবটি। নিজের দেশে খেলতে গিয়ে ম্যানসিটি তারকা আর্লিং হালান্ড ছিলেন

পুরোপুরি নিষ্প্রভ, অন্যদিকে গ্যালারিতে বসে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের সাক্ষী হয়েছেন

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোদো গ্লিম্ট আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। যদিও ম্যানসিটি

পাল্টা কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু ফিল ফোডেন ও আর্লিং হালান্ড সেই সুযোগগুলো

কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে স্বাগতিকরা ম্যানসিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে

লাগিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিশেষ করে সিটির বাম পাশের

রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ছিল। ম্যাচের ২২তম মিনিটে ওলে ডিডরিগ ব্লমবার্গের ক্রস থেকে

গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্যাসপার হগ। এর ঠিক এক মিনিট পরেই অর্থাৎ ২৩তম মিনিটে

সিটির রক্ষণের ভুলে বল কেড়ে নিয়ে ব্লমবার্গ ফাঁকায় দাঁড়ানো হগকে পাস দিলে তিনি

অনায়াসেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও বোদোর দাপট অব্যাহত থাকে। জেন্স পিটার হাউগের দুর্দান্ত এক গোল

ম্যানসিটিকে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে দেয়। অবশ্য এর দুই মিনিট পরেই রায়ান চেরকির গোলে

কিছুটা আশা ফিরে পায় সিটিজেনরা। কিন্তু ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ইংলিশ

ক্লাবটি। দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার রদ্রি এর্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে

মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ম্যানসিটি। এরপর আর ম্যাচে ফেরার মতো কোনো অলৌকিক

কিছু করে দেখাতে পারেনি গত দুই মৌসুম আগের চ্যাম্পিয়নরা।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে বোদোর সমর্থকরা। চ্যাম্পিয়ন্স

লিগে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়টি এমন এক পরাশক্তির বিপক্ষে আসবে, তা হয়তো অনেকেই

কল্পনা করতে পারেননি। ম্যানচেস্টার সিটির মতো তারকাখচিত দলকে হারিয়ে বোদো গ্লিম্ট

ইউরোপীয় ফুটবলে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন