শনিবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১০ই মাঘ, ১৪৩২

পিলখানা ট্র্যাজেডি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা নির্মাতা রায়হান রাফীর

সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করে সমকালীন চলচ্চিত্রে বিশেষ

পরিচিতি পেয়েছেন নির্মাতা রায়হান রাফী। বরগুনার রিফাত-মিন্নি হত্যাকাণ্ড নিয়ে

‘পরাণ’, গাজীপুরের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘জানোয়ার’ এবং ঢাকার কদমতলীর ট্রিপল

মার্ডার নিয়ে ‘ফ্রাইডে’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন। সম্প্রতি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তাঁর ওটিটি ওয়েব ফিল্ম

‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পেয়েছে, যা দীর্ঘ সেন্সর জটিলতা কাটিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর

দর্শকের সামনে এসেছে।

এবার এই মেধাবী নির্মাতা ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে রুপালি পর্দায় তুলে আনার পরিকল্পনা করছেন। ওই মর্মান্তিক

ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৭৪ জন প্রাণ

হারিয়েছিলেন। এ বিষয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে রাফী বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে আছে

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানোর। এতজন সেনাকে হত্যা করা হলো, একের পর এক লাশ

বের হলো, গণকবর হলো। ভেতরে কী ঘটনা ঘটেছিল তা এখনো পুরোপুরি জানি না। আরও তথ্য জানা

গেলে তখন এ নিয়ে সিনেমা বানাব।’

বাস্তব ঘটনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে রাফীকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও

চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের বাধা ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের

কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, সত্য প্রকাশে অবিচল থাকলে এসব বাধা অতিক্রম করা

সম্ভব। তাঁর মতে, ‘সাহস থাকলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বারবার কাজ করা যায়। আমার লক্ষ্য

হলো, সমাজে একই ধরনের অন্যায় যেন পুনরায় না ঘটে, সেই সচেতনতা তৈরি করা।’

বর্তমানে রায়হান রাফী প্রথমবার প্রযোজকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ‘প্রেশার কুকার’ নামক

একটি সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারটি ভিন্ন গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি

আগামী রোজার ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তাঁর পরিচালিত ভৌতিক ঘরানার সিনেমা

‘আন্ধার’-এর চিত্রধারণ শেষ হয়েছে এবং এটিও চলতি বছরেই মুক্তি পেতে পারে। মূলত

সমাজের অমীমাংসিত রহস্য এবং সত্য ঘটনাকে সাহসের সাথে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই রাফীর

নির্মাণশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন