বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

ভাই হত্যার বিচার চেতেই রাজনীতিতে যোগ দিলাম: স্নিগ্ধ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ অবশেষে নিজের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গুঞ্জন ও সমালোচনার পারিপার্শ্বিকে তিনি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন, তার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ‘ভাই ব্যবসা’ নয়; বরং নিজের ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, ভাই হত্যার বিচার দাবিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি উপলব্ধি করেন, প্রকৃত ন্যায়বিচার পাওয়া ক্রমশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠছে। এই সংগ্রামে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করতে তিনি রাজনীতির কলুষিত পথে নেমে পড়েছেন। তিনি জানান, মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে তিনি রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মেই তিনি সফলভাবে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন।

নিজের ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প শেয়ার করে স্নিগ্ধ প্রকাশ করেন, তার উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ভাই মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যোগ দিয়ে দিনরাত কাজ করেছেন। তিনি স্মরণ করেন, পাবলিক বাসে ভ্রমণের সময় এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইলের পেছনে ছুটি, বিভিন্ন ঝামেলা ও ধকল সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও থমকে গিয়েছিল। তবে এই সংগ্রামে হাল ছাড়েননি, কারণ তার জন্য ভাইয়ের হত্যার বিচারের পাশাপাশি শহীদ পরিবারের পাশে থাকা ছিল অঙ্গীকার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নামের সঙ্গে ‘ভাই ব্যবসা’ বা সুবিধা নেওয়ার ভ্রান্ত অভিযোগ ওঠার জল্পনা-কল্পনাকে তিনি কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে অসৎ বা সুবিধাবাদী বলে অভিহিত করা কতটুকু যৌক্তিক? তিনি প্রকাশ করেন, সমাজে এমন নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, দায়িত্ব পালন বা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া অর্থনৈতিক লাভের জন্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি তার ব্যক্তিগত আত্মবৃদ্ধির জন্য এই পথ বেছে নিতেন, তবে সাধারণ মানুষকে উপেক্ষা করতেন। রাজনীতি এখন ব্যবসার মতো করে তুলে ধরার সমালোচনা করে স্নিগ্ধ বলেন, এরা রাজনীতি এক নামে নয়, এটি জনতার অধিকারের জন্য এক সংগ্রাম। তিনি বলেন, নিজের ভাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন, যা অনেকের কাছে এক কঠিন ও সংকটময় সিদ্ধান্ত ছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন