বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

খুলনা ও বগুড়ায় শীত মৌসুমে আলু চাষ ও রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার

খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ অঞ্চলে মোট ৭৮ হাজার টনের বেশি আলু চাষ সম্পন্ন হয়েছে। একইসাথে, বগুড়ায় এই মৌসুমে আলুর রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন দেশের বাজারে আলু পাঠানো হচ্ছে।

খুলনা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা বিভিন্ন ধরণের আলুর চাষের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৩৫৯১ একর জমিতে ৭৮ হাজার ৪৭ টন আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষে এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে কৃষকেরা আমন ধান কাটা শেষ করে নতুন জাতের আলু চাষ শুরু করেছেন।

বাজারে আগাম জাতের আলু আসা শুরু করেছে, যা চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য লাভজনক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য জেলার মতো খুলনায় ও এর আশপাশের অঞ্চলে আলু চাষের জন্য নির্ধারিত জমির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাজ শেষ হয়েছে। চাষের এই সম্পন্নতা সুচক হলো, মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী খুলনায় ৪৬৯ হেক্টর, বাগেরহাটে ৩৯৫ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ১৮৫৬ হেক্টর এবং নড়াইলে ৮৮ হেক্টর আলু চাষ শেষ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তারা মোট ২৮১০৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষের পরিকল্পনা করেছেন। এই এলাকার চারটি জেলায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আলু বীজ বপন ও সংরক্ষণের কাজ চলবে। এর মাধ্যমে তারা আশা করছেন, এবার আখর ফলন আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেও এই মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। সরকারের পাশাপাশি কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ক্ষেতের পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছে। সদ্য নির্মিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কৃষকদেরকে কৃষিতে আরও উৎসাহ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, বগুড়া থেকে আলুর রপ্তানি নতুন দিগন্ত খুলছে। এবছর এই জেলা মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালসহ সাতটি দেশে আলু ও সবজি রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মূলত সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় এসব পণ্য। প্রথমে এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়, সেখান থেকে জাহাজে পরিবহন করে বিদেশের বাজারে পাঠানো হয়।

বগুড়ার আবহাওয়া ও উর্বর মাটি এই জেলাকে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ‘সবজির জেলা’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় এখানে আলুসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। গত মৌসুমে এ জেলায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়ে, যার ফলন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন। সার্বিক লক্ষ্য হলো, চলতি মৌসুমে এই জমিতে প্রায় তিন লাখ টনের বেশি সবজি উৎপাদন করা।

বগুড়ার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানাচ্ছেন, অতীতে বিভিন্ন ধরণের সবজি ও আলু বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। নিয়মিত রপ্তানি অব্যাহত থাকলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এই রপ্তানি কার্যক্রম দেশীয় কৃষিপণ্য বিক্রির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন