শুক্রবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

ইসরায়েলের হামলায় জাতিসংঘের কার্যালয় ধ্বংস, ১১ দেশের নিন্দা জ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর পূর্ব জেরুজালেমে মূল অফিস দরজা-জানালা সহ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় বিশ্বের অধিকাংশ গণমাধ্যমসহ ১১টি দেশ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, এই পদক্ষেপটি ইসরায়েলের অগ্রহণযোগ্য এক পরিকল্পনা, যা সংস্থাটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। তারা আরও বলেন, জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে এই ধরনের ধ্বংসকার্য বন্ধের জন্য ইসরায়েলকে কঠোরভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসা এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলে, কিন্তু জাতিসংঘ এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতির ফলে আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা করছে। তবে মানবিক সাহায্যের জন্য এখনও এই সংস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করছে।

২০২৪ সালের শেষদিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে যেখানে বলা হয় যে, এই দেশের অধীনস্থ এলাকাগুলোতে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এর আগে, ডিসেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার জন্য আইন সংশোধন করা হয়। এই বিষয়টি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দৃষ্টিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

গত সপ্তাহে ইউএনআরডব্লিউএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্ব জেরুজালেমে তাদের সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভবন ধ্বংসের পথ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, এটি একটি অভূতপূর্ব হামলা, যা সংস্থার আন্তর্জাতিক সম্মান ও অখণ্ডতার ওপর আঘাত হানছে। তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের খুবই গুরুতর লঙ্ঘন, যা একদিকে আইসিজের ২০২৫ সালের রায় সরাসরি অমান্য করে। সেই রায়ে বলা হয়, ইসরায়েলের দায়িত্ব রয়েছে ইউএনআরডব্লিউএর ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য ও কার্যক্রম সহজতর করার জন্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন