শুক্রবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

ভারত বিশ্বনেতৃত্বের দিকে এগিয়ে চলছে: মোদি

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। বিমান চলাচল, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সব ক্ষেত্রেই ভারতের এই উন্নয়ন দৃশ্যমান। তিনি হায়দরাবাদে বেগমপেট বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত ‘উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬’ এভিয়েশন সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতে ৪০০টিরও বেশি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের আকাশপথে যোগাযোগের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, এখন সাধারণ মানুষের জন্যও বিমান যাত্রা সাশ্রয়ী ও সহজ হয়েছেন। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোর জন্য নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আকাশপথে ভ্রমণের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে দেশে মোট বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭০টি, যা বর্তমানে বেড়ে ১৬০টির বেশি হয়েছে। গত এক দশকে শতাধিক এয়ারড্রোম চালু হয়েছে এবং সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিমান পরিবহনের সুযোগ বাড়ছে। সরকার আঞ্চলিক এবং স্বল্পমূল্যের বিমান সংযোগকে শক্তিশালী করার জন্য দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা ভারতকে গ্লোবাল সাউথ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন কেন্দ্র बनाने সাহায্য করবে।

ভারত প্রযুক্তি ও পরিবেশের ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, বিমান সাজানোর পাশাপাশি বিমান অংশ উৎপাদন ও সরবরাহেও দেশ বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতিমধ্যে সামরিক ও পরিবহন বিমান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং বিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। মোদি আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগগিরই ভারতের ডিজাইন এবং উৎপাদিত ‘ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ ও ল্যান্ডিং’ (ইভিটিওএল) বিমান বিমানের বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিপ্লব ঘটাবে, যা ভ্রমণের সময় কমিয়ে আনবে।

সর্বশেষে, তিনি টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বলেছিলেন, ভারত পরিবেশের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদন ও রপ্তানি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আগামী vài বছরের মধ্যে দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম এভিয়েশন জ্বালানি উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এই সম্মেলন মূলত এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী হিসেবেই পরিচিত। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের সুবিধা কাজে লাগিয়ে, দেশ এখন বিশ্বের বিমান চলাচলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন