রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৮ই মাঘ, ১৪৩২

ইউএনডিপির সঙ্গে বিএসইসির সহযোগিতায় টেকসই অর্থায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে টেকসই অর্থায়নের কাঠামো গড়ে তুলতে একত্রিত হয়েছেন। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কেন্দ্রীয় ভবনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উভয় সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় টেকসই অর্থায়ন ও বিনিয়োগ টেকনোলোজি উন্নয়ন, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের জন্য কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট পাবলিক ও প্রাইভেট খাতের অংশীদারদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে থিম্যাটিক বন্ডের অর্থের সঠিক ব্যবহার, প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, রিপোর্টিং, প্রভাব মূল্যায়ন ও মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের সত্যায়ন ব্যবস্থাও সুদৃঢ় করা হবে।

থিম্যাটিক বন্ড হলো বিশেষ ধরণের বন্ড যাহা নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এর মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন টেকসই খাতে বিনিয়োগ করা হয়। এর বিভিন্ন ধরনের রয়েছে— যেমন গ্রিন বন্ড পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য, সোশ্যাল বন্ড সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে, ক্লাইমেট বন্ড জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায়, এবং এসডিজি বন্ড জাতিসংঘের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে অর্থায়ন করতে ব্যবহৃত হয়।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, নিয়ন্ত্রক হিসেবে তারা বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। সুস্পষ্ট নিয়মনীতি, স্বচ্ছতা ও আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বন্ড মার্কেটের বিকাশ ও থিম্যাটিক বন্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ইউএনডিপির বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের উন্নয়নমুখী অগ্রগতি, নিরাপদ ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ায় এসব বন্ড বেশ কার্যকর উপায় হতে পারে। তিনি বলেন, অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই বাজারের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা হবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি ও বিএসইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা ভবিষ্যতের জন্য টেকসই অর্থায়নে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরো সুদৃঢ় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

পোস্টটি শেয়ার করুন