শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২

কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনি ধসে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এতে কমপক্ষে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায়, যেখানে গত বুধবার এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ওই এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে থাকায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান একেবারেই স্পষ্ট ছিল না। স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, প্রাদেশিক রাজধানী গোমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই খনিটি ব্যাপক বর্ষণের কারণে ভূমিধসের শিকার হয়। গভর্নর মুইসা বলেছেন, ভূমিধসের সময় খনিটি পুরোপুরি চালু ছিল। দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে খনিশ্রমিকের পাশাপাশি নারী ও শিশুও রয়েছে যারা ওই এলাকার বাজারে কাজ করত। বর্ষাকালের কারণে মাটি খুবই নরম ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে একটি বড় পাহাড়ি অংশ খনির ওপর ভেঙে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুর্ঘটনা কোনোভাবেই নতুন নয়, তবে এবারের প্রাণহানির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনি খননের জন্য ব্যবহৃত প্রতিকূল আবহাওয়া ও নিরাপত্তার ব্যর্থতা এর মূল কারণ। এই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ এখন খুবই জটিল পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় উদ্ধারকার্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা জানিয়েছেন, বেশ কিছু মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে নিখোঁজদের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আহত প্রত্যেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই অঞ্চলের খনিজ সমৃদ্ধ প্রকৃতি থাকলেও প্রতিবারই এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল কারণ হলো ভয়ঙ্কর আবহাওয়া আর নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খনি খননের ফলেই এত বড় ট্র্যাজেডি হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন