টেনিস বিশ্বের জন্য এক অবিস্মরণীয় লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন কাজাখস্তানের তারকা খেলোয়াড় এলেনা রিবাকিনা। আজ শনিবার মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা নিজেদের করে নেন। ২০২২ সালে উইম্বলডন জয়ের পর এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। এই জয়ে রিবাকিনা আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনি স্নায়ুবল ঝড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই লড়াই, যা টেনিসপ্রেমী সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল।
প্রথম সেটেই শক্তিশালী খেলোয়াড়দের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়। এই সেটে নিজের আক্রমণাত্মক খেলায় ৬-৪ গেমে জয় নিশ্চিত করে রিবাকিনা। এর পরের দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কা পারফরমেন্সের জোয়ারে ফিরে আসেন। তিনি রিবাকিনার সার্ভিস ব্রেক করে ৬-৪ গেমে সেটটি জিতে ম্যাচে সমতা আনেন। দর্শকদের উত্তেজনা তখন আরও বেড়ে যায়।
তৃতীয় ও চূড়ান্ত সেটটি ছিল পুরো টুর্নামেন্টের নাটকীয় অধ্যায়। সেটের শুরুতেই সাবালেঙ্কা দ্রুত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান, মনে হচ্ছিল হয়তো তিনি তৃতীয়বারের মত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফি উঠিয়ে নেবেন। কিন্তু রিবাকিনা হাল না ছেড়ে, ধৈর্য্য ও মনোবলের সাথে স্বভাবসুলভ খেলায় ফিরে আসেন। তিনি দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় দুটি সার্ভিস ব্রেক করে ম্যাচের দিক পরিবর্তন করেন, মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেন সাবালেঙ্কার ওপর। অবিশ্বাস্য সাহস ও ধারাবাহিকতায় শেষমেশ তিনি ৬-৪ গেমে সেট ও ম্যাচ জিতে, বিজয়োজ্জ্বল উল্লাসে মাতিয়ে তোলে নিজের নাম।
সাবালেঙ্কার জন্য এই হার অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন হত্তয়া ও হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন দেখলেও দ্রুত সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্ন থেকেও দূরে সরে গেছেন। অন্যদিকে, রিবাকিনার এই জয় তার ক্যারিয়ারে এক বিশেষ অধ্যায়। ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ রিবাকিনা তাঁর এই সাফল্যের পেছনের কঠোর পরিশ্রম ও পুরো দলের সমর্থনে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি তার চড়াই-উতরাইয়ের এক বিশাল সফলতা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় রিবাকিনার টেনিস বিশ্বে তার আধিপত্যকে আরও সুসংহত করল। তার উদ্দেশ্য ও পরিশ্রমের প্রতিফলন এই জয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে তার ক্যারিয়ারকে উজ্জ্বল করে তুলবে। এই স্মরণীয় লড়াইয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, অসম্ভব কিছুই নয়, যদি থাকে দৃঢ় মনোবল এবং অটুট সাহস।





