এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লন্ডন ডার্বি ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল এক অপরিসীম উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য। নির্ধারিত সময় শেষের পথে থাকলেও গ্যালারিতে তখন ড্রয়ের প্রত্যাশা চলছিল, ঠিক সেই সময় দৃশ্যপট বদলে যায় কাই হাভার্টজের নাটকীয় গোলের মাধ্যমে। এই মানসিক চাপপূর্ণ মুহূর্তে চেলসির মনোবল ভেঙে পড়লে, আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং লিগ কাপের ফাইনালে অনিজ্ঞ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের ফেরত লেগের এই ম্যাচে মিকেল আর্তেতার দল ১-০ গোলের জয় ছুঁয়ে ফেলে, প্রথম লেগে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কারণে মোট ৪-২ অ্যাগ্রিগেটে তারা শিরোপা নিশ্চিত করে। লন্ডন ডার্বির উত্তেজনা শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে ফুটে উঠছিল। তবে প্রথমার্ধে আর্সেনাল ও চেলসির খেলায় কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মূল লড়াইয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। চোটের কারণে আর্সেনাল তাদের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধিনায়ক মার্টিন ওডেগো ও বুকায়ো সাকাকে এ ম্যাচে মাঠে নামাতে পারেনি। এর বিপরীতে, টানা পাঁচ ম্যাচ জেতা চেলসি আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে থাকলেও এমিরেটস মাঠে তাদের সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রথমার্ধের ১৮ মিনিটে আর্সেনালের পিয়েরো ইনকাপিয়েরের শক্তিশালী শট রুখে দিয়ে ম্যাচে টিকে থাকেন চেলসির গোলরক্ষক। বিরতির আগে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শটও গানারদের রক্ষণ ভেদে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির বল possession বেড়ে গেলেও, আর্সেনালের কঠোর রক্ষণে জোড়ালো আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়নি। তবে মূল নাটক শুরু হয় যোগ করা সময়ের ছয় মিনিটে। চেলসির সব খেলোয়াড় যখন আক্রমণে উঠে যায়, তারা রক্ষণ ভাগে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে আর্সেনাল রক্ষণভাগে বল নিয়ে প্রবেশ করেন ডেক্লান রাইস, তার লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণ করে কাই হাভার্টজ দর্শকদের মাঝে চমক সৃষ্টি করেন। ওয়ান-অন-ওয়ানে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড। এই গোলের মাধ্যমে আর্সেনাল ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায়, যা মূলত তাদের দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০২০ সালে এফএ কাপ জেতার পর এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটি। ডেক্লান রাইস ও কাই হাভার্টজের সহযোগিতা চোখে পড়ার মতো ছিল। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে ম্যানচেস্টার সিটি বা নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মধ্যে যেকোনো এক দলের মুখোমুখি হওয়া। সমর্থকদের আশা, দীর্ঘ বছর ধরে অপেক্ষার পরে এবার তাদের প্রিয় দল শিরোপার স্বাদ পাবে। হার না মানা মানসিকতা এবং কৌশলগত দক্ষতা এই জয়কে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।





