শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২

মার্কিন কারাগারে মাদুরো মুক্তির দাবিতে ভেনেজুয়েলায় উত্তাল পরিস্থিতি

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দেশটির রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এক মাস আগে মার্কিন সেনাদের হাতে তোলে নেওয়ার পর থেকে এই প্রথম এমন বিশাল আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। মঙ্গলবার হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে মাাদুরোর মুক্তির দাবি জানানোসহ মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান।

সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানা যায়, কারাকাসের রাজপথগুলো আজ ‘ভেনেজুয়েলার প্রয়োজন, নিকোলাস’ স্লোগানে মুখরিত ছিল। বিক্ষোভকারীরা তাণ্ডবের মতো ধ্বনি দিয়ে তাদের নেতা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি করেন। এই বিশাল সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই সরকারি কর্মচারী ছিলেন, যারা মাদুরোর ছবি ও তার স্ত্রীর ছবি নিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন বহন করেন। অনেক সমর্থক লাল পোশাক পরা ছিলেন, যা চাভিস্তা নামক বামপন্থি পপুলিস্ট আদর্শের প্রতীক। তারা ট্রাকে গান বাজিয়ে এবং ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা উড়িয়ে একটি আবেগপ্রবণ পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

উল্লেখ্য, এক মাস আগে মার্কিন সেনাদের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে মাদক মামলায় বিচার শুরু হয়েছে, যা তার অনুসারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তার অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি একদিকে ওয়াশিংটনের সমর্থন ও কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের ভিতরে মাদুরোর সমর্থক ও বিরোধীদের চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই দ্বৈত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যখন মাদুরোর সমর্থকরা তার মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমেছেন, তখন বিরোধীরা নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের দাবি তুলছে। তাদের মতে, মাদুরোর ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর দেশের জন্য একমাত্র সমাধান হলো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। দুই পক্ষের এই দ্বন্দ্বে ভেনেজুয়েলা এখন এক অপ্রীতিকর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, মার্কিন কারাগারে মাদুরোর বিচার যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়বে।

পোস্টটি শেয়ার করুন