শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২

শিল্পীরা নিজের হাতে স্বীকৃতি পেলে সবচেয়ে আনন্দিত হন: আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী

বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু। গিটারে

জাদুকরী সুর আর কণ্ঠের মাদকতায় তিনি জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। এবার সেই

অসামান্য অবদানের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত

করা হয়েছে। এই গৌরবময় অর্জনের খবরটি জানাজানি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৫

ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ বার্তা

দিয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা।

একুশে পদকের জুরি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি

তাঁর বার্তায় লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের বাংলাদেশ। একুশে পদকে ভূষিত হলেন রক আইকন আইয়ুব

বাচ্চু (মরণোত্তর)। এটা শুধু আইয়ুব বাচ্চুর শিল্পী হিসেবে সম্মাননা নয়, এটা বাংলা

ব্যান্ড সংগীতের ও সঙ্গীতের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য

এর সাথে জুড়ি বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও

ধন্যবাদ।’

স্বামীর এই বিশাল অর্জনে আনন্দিত হলেও চন্দনা তাঁর প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতি নিয়ে

অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘খবরটা শোনার পর আমার

চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। কারণ যার নেওয়ার জিনিস, সে তো আর নেই। নিজের

হাতে সম্মানটা নিতে পারা একটা বিশাল ব্যাপার। দোয়া করবেন ওর জন্য—যেন ওপর থেকে

দেখতে পায়।’ চন্দনার মতে, এই সম্মাননাটি আইয়ুব বাচ্চুর জন্য পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল,

তবে জীবদ্দশায় নিজ হাতে এটি গ্রহণ করতে না পারার একটি আক্ষেপ চিরকালই থেকে যাবে।

তিনি এই বেদনাবোধ থেকে আরও উল্লেখ করেন, ‘শিল্পীরা নিজের হাতে স্বীকৃতি পেলে সবচেয়ে

আনন্দিত হন। বাচ্চু হয়তো ভাগ্যবান ছিলেন না, তাই তা নিতে পারেননি।’

একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে গিটার জাদুকরের জীবনের কিছু অপ্রকাশিত আফসোসের

কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তবে সেসব নিয়ে বিস্তারিত না বলে তিনি শুধু যোগ করেন,

‘একটি পদক একজন শিল্পীকে আরও দুই কদম এগিয়ে দেয়। ওরও আক্ষেপ ছিল, মাঝে মাঝে এসব

নিয়ে বলত। কিন্তু এখন সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। চলে যাওয়ার পর হলেও পেয়েছে—অনেকে

তো সেটুকুও পায় না।’ উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদকের তালিকায়

আইয়ুব বাচ্চুসহ মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রখ্যাত ব্যান্ডদল

‘ওয়ারফেইজ’-এর নাম রয়েছে। সংগীত, চলচ্চিত্র, চারুকলা, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতাসহ

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই বছর ফরিদা আক্তার ববিতা, অধ্যাপক মো.

আব্দুস সাত্তার, মেরিনা তাবাসসুম, শফিক রেহমানসহ অন্যান্য গুণীজনদের এই রাষ্ট্রীয়

সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। মূলত কিংবদন্তি বাচ্চুর এই স্বীকৃতি দেশের ব্যান্ড

সংগীত জগতের জন্য এক অনন্য সম্মান বয়ে এনেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন