শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২

চট্টগ্রাম বন্দর সচল করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি ডিসিসিআইয়ের

দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত ও স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল Stakeholder এর সাথে আলোচনা চালিয়ে দ্রুতসময়ে এই সংকট মোকাবেলা দরকার। ডিসিশিআই বিশ্বাস করে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রাণে আঁকা। কারণ, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমে খালাস হয়। আমাদের দেশের সমস্ত অর্থনীতির মূল চাকা এই বন্দরের মাধ্যমে চলাচল করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাধারণত মাসে গড়ে ২.৬ লাখ TEU পণ্য এবং প্রতিদিন প্রায় ৯,০০০ TEU পণ্য এই বন্দরে খালাস হয়। কিন্তু, গত বুধবার থেকে এই সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য আটকা পড়ে আছে, এবং এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধের কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। ডিসিসিআই এ আশঙ্কাও প্রকাশ করে যে, এই অচলাবস্থার কারণে দেশের রপ্তানি খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ না হওয়ায় অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থানান্তরের ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও কিছু বিদেশি ক্রেতা সাময়িকভাবে সময় বাড়ানোর জন্য রাজি হলেও, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটের ফলে তারা বিকল্প উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহে এগিয়ে যেতে পারেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, ব্যবসায়ীগণ, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব Stakeholder একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ এ জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডিসিসিআই এর পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এই জরুরি পরিস্থিতিতে সবাই এক হন এবং আলোচনা চালিয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন