ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিকগুলো এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে সংস্থাটির কাছে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের উপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের কোনও সত্যতা নেই। সম্প্রতি, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। যদিও যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় এ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকলেও, প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনোরূপ শক্তি প্রয়োগ করেনি। তবে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হলে এবং জলকামানের ওপর উঠে গেলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সে সময় কোনো গুলি ছোঁড়া হয়নি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রধান উপদেষ্টার সুরক্ষার জন্য, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও তার আশপাশের এলাকায় কোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল বা বিক্ষোভজনক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। পুলিশ এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে এবং সম্পূর্ণ নিয়মনীতি অনুসরণ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ঘটনায় আহত হয়েছে মোট ২৩ জন, তাদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কিছুই চিকিৎসাধীন। তবে, তাদের শরীরে গুলির আঘাতের কোনও চিহ্ন দেখা যায়নি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, রাজনৈতিক এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সরকার সবাইকে ধৈর্য্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটির মানুষ এই নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের উপর কেন্দ্রীভূত। বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন। সরকার বলছে, দেশের সব নাগরিকের জন্য একটা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সুসম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা কামনা করছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই নির্বাচন দেশের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের ফল। দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য, সবার অংশগ্রহণে, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও অবহেলা বা বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতায়, একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে শেষ হওয়া সম্ভব।





