রোজার আশপাশের দিনগুলোতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনও কিঞ্চিত অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ লেবুর দাম বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি, কাঁচামরিচ আর মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে সুখের খবর হলো, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং পেঁয়াজের দাম আগের মতোই নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং আশেপাশের বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, রমজানের জন্য বেশি চাহিদা থাকায় লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দাম বৃদ্ধি পেয়ে তাদের পকেটের উপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোজা শুরু হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। যদি রোজায় আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে অন্যান্য পণ্যের জন্য বাজেটের মধ্যে রাখাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।’
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শবে বরাতের দুই দিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছর রমজানের আগে চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, সেই জন্য সরবরাহ কম থাকায় দাম চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, চাহিদা বেশি থাকার কারণে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি।
সরাসরি অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা করে, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে, এখন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।
পেঁয়াজের বাজারে আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজের আসন শুরু হওয়ার কারণে দাম কমে এসেছে, এখন কেজি aproximadamente ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, পেঁয়াজের দাম বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল, যা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
অপর দিকে, মুরগির বাজারে বাড়তি চাহিদা দেখা যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি মূল্য এখন ১৮० টাকা, যা আগের চেয়ে ১০ টাকা বেড়েছে। সোনা ও লাল লেয়ার মুরগি সরাসরি ৩০০-৩২০ টাকা এবং ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও বাড়ছে। একজন মুরগি বিক্রেতা জানান, এই সময়ে প্রতিষ্ঠান বা পরিবারগুলো বেশি জড়ো হয়, তাই চাহিদা ও দাম প্রবৃদ্ধি ঘটে।
বাজার থেকে জানা গেছে, কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ এবং জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানানো হলো, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১১৫-১৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ৫০-৬৫ টাকার মধ্যে, যা গত বছরের চেয়ে সামান্য কম। একইসাথে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা, যা গত বর্ষে ছিল ১৭৬ টাকা। খোলা সয়াবিনের দাম ১৮৫ টাকা, যা আগের মতোই।
এছাড়াও, সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায়, মাঝারি আকারের ১২০ টাকা এবং বড় দানার ১০৫ টাকা। চিনি এখন দামে কিছুটা কম—প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ১২৫ টাকা। গুঁড় দুধের মধ্যে, জনপ্রিয় ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগের বছর ছিল ৮৪০ টাকা।
একজন বাজারে কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর শবেবরাতের আগের দিনগুলোতে পণ্যের দামে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় পণ্যের অভাবের সংকটও চোখে পড়ছে না। তবে, গত বছরের তুলনায় দামের একটু বেশি হওয়াতে ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার মূল ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর আইন প্রয়োগের অভাব। বর্তমানে পণ্য সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও, কেন দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে তা মনিটর করতে হবে। অনিয়ম পেলে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাণিজ্য উপ advisory শেখ বশিরউদ্দীন জানান, কিছু পণ্যের দাম রমজানে কমবে। গত বছরের তুলনায় এবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে, এই রমজান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে। তবে, কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





