মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও হাওরের জীববৈচিত্র্য ক্ষতি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ও বাস্তবসম্মত তদন্তের দাবিতে সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগের একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

জনউদ্যোগের সভাপতি কবি ও লেখক সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য ও সংস্কৃতি কর্মী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলে পানির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত ফসল রক্ষা বাঁধে প্রতিয়মান অনেক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে গণমাধ্যমে। প্রাক্কলন ও পরিকল্পনার অভাবে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় বাঁধ ও পিআইসি গঠন হয়, যা আলোর মুখ দেখেনি বা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।

গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার মধ্যে বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, তবে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজের সময় শুরু হয়নি এবং নির্দেশনা প্রাপ্তিতে বিলম্ব হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেওয়াল ধাক্কা দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা হাওরের জীববৈচিত্র্য ও কৃষির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর সাথে উপরের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে আবাদি জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জনসাধারণ ও কৃষকদের মধ্যে এই প্রকল্পের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সময়মতো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ গণশুনানি ও পিআইসি গঠন, প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় অংশ বাতিল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকৃতি ও কৃষি সম্পদ রক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়াও, নদী খনন ও সুইচ গেট স্থাপনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দদকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রকল্পের অপচয় রোধে জোর দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, বুরহান উদ্দিন, সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের প্রকৃতি ও কৃষির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন