তিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন দল হিসেবে ইতালির যাত্রা শুরু হয় বড় এক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। সোমবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ড বিশাল ব্যবধানে ৭৩ রানে জয় লাভ করে। এই জয়টি ইতালির জন্য ছিল এক ধরনের প্রতিশোধের মতো, কারণ তারা কিছুদিন আগে বাছাইপর্বে একই দলের কাছে হেরেছিল। তবে এই বড় মঞ্চে কোচ রিচি বিরিংটনের দল সফলভাবে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতালির বোলাররা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি, কারণ স্কটল্যান্ডের ব্যাটাররা বলের গতিকে ছাড়িয়ে গেছেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে স্কটিশরা চার উইকেটে ২০৭ রান তুলে ইতিহাস সৃষ্টি করে।
স্কটল্যান্ডের দুই ওপেনার জর্জ মানসি ও মাইকেল জোন্স শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১২৬ রান যোগ করে দলের জন্য অসাধারণ ভিত্তি গড়ে তোলেন। মানসি ৫৪ বলে ৮৪ রান করেন, যেখানে ছিলেন ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। জোন্স ৩০ বলে ৩৭ রান করেন, তবে দ্রুত ফিরে যান। এরপর ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন ও অধিনায়ক রিচি বিরিংটন রানের গতি ধরে রাখেন। ম্যাকমুলেন ১৮ বলে ৪১ রান করেন, আর শেষের দিকে মাইকেল লিস্কের ছোট কিন্তু কার্যকর ২২ রানে স্কটল্যান্ড দুইশর কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
তালিকার লক্ষ্য ছিল ২০৮ রান, যা অর্জন করা ছিল খুবই কঠিন। ইতালির ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই খুব বিপদে পড়েন এবং মাত্র ৪০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায়। মাঝপথে বেন মানেন্তি (৫২) ও হ্যারি মানেন্তি (৩৭) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও স্কটিশ স্পিনার মাইকেল লিস্কের জাদুকরী স্পিনে ১৬.৪ ওভারে দল মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। চোটের কারণে দলের অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন ব্যাটিংয়ে অংশ নিতে পারেননি, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়।
ম্যাচের মোটমাট পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হন মাইকেল লিস্ক, যিনি যেমন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন, তেমনি বল হাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ম্যাচের সেরা হন। এই জয়ের ফলে স্কটল্যান্ড গ্রুপ পর্বে নিজেদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, বড় দলের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নামা ইতালি তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যদিও ফলাফল কিছুটা হতাশাজনক। অধিনায়ক ম্যাডসেনের ইনজুরির কারণে পরবর্তী ম্যাচের জন্য দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।





