মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২

১০৭টি মামলার পথিপ্রান্ত থেকে নেতা হিসেবে উঠে আসা হাজী মুজিবুর রহমানের উত্থান: মন্ত্রিত্বের আশা

বিগত ১৭ বছর ধরে জেল-জুলুম এবং রাজনৈতিক মামলার ঝামেলা কাটিয়ে উঠে, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে অবিচল থেকে তাদের মনোভাব জাগরूक করার জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিপত্তির মধ্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাহস ও অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

শোনা যায়, এই দুঃসময়ে তিনি ৭৫টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, এবং তার দলের অনেক নেতাকর্মী একইভাবে মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। মামলার আইনি লড়াই চলাকালীন তিনি নিজে তাদের পরিবারে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, যারা মামলা ঝুলে থাকায় সংকটে পড়েছেন। কিছু পরিবারকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন, এভাবেই তিনি দেশপ্রেম ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলা যুবদলের ত্যাগী নেতা মহিউদ্দিন আহমদ ঝাড়ু মিয়া বলেন, “একজন কর্মীবান্ধব নেতার জন্য যা কিছু দরকার, তার সব গুণাবলি হাজী মুজিবুর রহমানের মধ্যে রয়েছে। তার রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের এক অবিচল উদাহরণ।”

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “চার বছরেরও বেশি সময় জেল খেটে কঠিন কষ্টের মধ্যে থেকেছি। এ সময় আমার অসুস্থ ভাই মারা যান, আমি সেখানে থাকতে পারিনি। আমার ব্যবসাও ধসে গেছে, ব্যাংক ঋণ বেড়েছে। তবুও আমি দল ছাড়ার কথা ভাবিনি।

তাঁর ভাষায়, ‘খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমান নির্বাসনে থাকাকালীন আমি মুখে চুপ থাকিনি। নানা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে মামলা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলার আমি ছিলাম প্রথমে আসামি। আমি দেখেছি, পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমার জীবন বিপদে পড়েছে এবং বেশ কয়েকবার ঈদের নামাজও বাড়িতে আদায় করতে পারিনি। একবার এমন ঘটনা ঘটে, যখন পুলিশ ঈদের দিনই আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল।’

অথচ, এই সব বেদনা ও বিপত্তির মাঝেও তিনি বলছিলেন, ‘আমার ত্যাগের পরিমাণ দল ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের তুলনায় ক্ষুদ্র। আমি কৃতজ্ঞ, কারণ দল ও এলাকাবাসী আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের একশো’রও বেশি নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এর বেশিরভাগের দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন। বিপদে আমরা সবসময় তার পাশে ছিলাম।’

কমলগঞ্জের সাবেক বিএনপি সভাপতি দুরুদ আহমদ বলেন, “২০০১ সালের নির্বাচনে কিছু ভোটে হারলেও, হাজী মুজিবুর রহমান জনগণের জন্য যা কিছু করেছেন, তার বড় অংশ নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কমলগঞ্জের কুশালপুরে উম্মেরুন্নেছা দাতব্য চিকিৎসালয়, আলেপুরে আব্দুল গফুর মহিলা কলেজ, হাজী মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জহির উদ্দিন চৌধুরী হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং চিশতী ডায়াবেটিক সেন্টার। এ ছাড়াও, তিনি বিভিন্ন স্থানে যানবাহন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দাতব্য হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাঠ ভরাট, বেঞ্চ-ডেস্ক বিতরণ, আর্থিক অনুদান ও সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণতেও সক্রিয় ছিলেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা পরেশ কালিন্দী বলেন, “চা শ্রমিকরা তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন, এবং আমরা আশাবাদী, তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেশের কল্যাণে অবদান রাখার সুযোগ দেওয়া হবে।”

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, “হাজী মুজিব সবসময় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি নিজ তহবিলের পাশাপাশি সরকারের বরাদ্দ থেকেও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলার বোঝা এবং পারিবারিক ক্ষতি উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় থাকা ও 社会 উন্নয়নে অবদান রাখায় তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এই শ্রমবীর সাংসদকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে, তিনি শুধুমাত্র শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ নয়, জাতীয়ভাবে ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন