ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে এদিন তাদের মধ্যে অনেকেই শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিলেন, ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে এড়িয়ে গেছেন। এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর আগে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও অন্যান্য অনেক দলের নেতারাও একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানটি মূলত দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমে নবনির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যেখানে তারা স্বাক্ষর করেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের অংশে তারা অংশ নেননি। সংগঠিত এই ঘটনা দেখে বোঝা যাচ্ছে’, তারা একভাবে প্রমাণ করেছে যে, তারা এই সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদে আজকের এই শপথের জন্য দুটি পৃথক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল—একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে। তবে শপথের দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সময় তারা অবস্থান পরিবর্তন করেন। এর ফলে, তারা প্রকারান্তরে বিএনপি ও তারেক রহমানের অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়ে থাকেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই বর্জনের পেছনে আইনি অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সংবিধানে এই পরিষদের কোনো স্বীকৃতি বা আইনি ভিত্তি নেই, এবং এই পদের জন্য কেউ সরাসরি নির্বাচিত হননি। সালাহউদ্দিন আহমদ এক্ষেত্রে স্পষ্টতই বলছেন, বিএনপি প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এই কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কার একটি জাতীয় ও সংসদীয় প্রক্রিয়া, যা আগে সংসদে আলোচনা ও অনুমোদিত হওয়া উচিত। বর্তমান সংবিধানের বাইরে গিয়ে এই সংস্থা বা পরিষদে শপথ নেয়ার বিষয়টি বিএনপি নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এটাই বুঝতে পারছেন যে, তারা শুধুমাত্র আইনপ্রণেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে থাকা তাদের উদ্দেশ্য নয়। এই ঘটনার সময়, রূমিন ফারহানা, ইশরাক হোসেনসহ আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান, যা সংসদীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। সংসদে আজকের দিনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্তময়। সকাল থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর বিকেল সাড়ে ১১টার দিকে তারেক রহমানকে সংসদীয় দল নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। একই সময় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের সদস্যরাও পৃথকভাবে শপথ নেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, দুই বড় রাজনৈতিক দলের এই বিপরীতমুখী অবস্থানটি সংসদীয় ও সাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। যদিও জামায়াত এই সংসদকে ‘অর্থহীন’ বলে আখ্যায়িত করে থাকলেও, স্বতন্ত্র ও বিএনপি নেতাদের এই অনড়তা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ইচ্ছা ও সংস্কারকাজে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে। বিকেলের মধ্যে, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে। যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জোরদার হবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম। এভাবেই, এই নতুন সরকারের শপথের সময়ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বর্জন করা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে, কারণ এটি এক রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে, এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, সংসদীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সরকার ও বিরোধী দলের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, এই অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নতুন গতিতে চালিত করবে।





