বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২

প্রধানমন্ত্রীর পদে তারেক রহমানের সুবিধাসমূহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুনপ্রজন্মের নেতা হিসেবে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন গতকাল মঙ্গলবার। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পদে যোগ দেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া এই সরকারের প্রধানের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যমান ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬’ অনুযায়ী, আইনত যে সব সুবিধা ও অধিকার তার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা তিনি সুবিধাভোগী হবেন।

আইনের ধারায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি, বাড়িভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ভাতা পাবার সুবিধা রয়েছে, যদিও সাধারণত তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নির্ধারিত বাসভবনে থাকেন। এই বাসভবনের সব সাজসজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সরকার বহন করে। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বা দেশের বাইরে যেতে চাইলে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা দৈনিক ভাতা পেয়ে থাকেন, যা মূলত দাপ্তরিক ভ্রমণের খরচ চালাতে ব্যবহৃত হয়।

অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জন্য একটি বিশাল অঙ্কের স্বেচ্ছানুসন্ধানী তহবিল রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর দেড় কোটি টাকার বিশেষ এক তহবিল বরাদ্দ থাকে, যেখানে তিনি জনকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রমে সুবিধাভোগী হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারেন। এ ছাড়া, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান ভ্রমণের সময় জন্য ২৫ লাখ টাকার বিমা কভারেজও রয়েছে। তাঁর বিনোদন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ, এমনকি কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের যাবতীয় ইউটিলিটি বিল—যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোন—সবই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়।

পরিবহন সুবিধার ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পান। তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে সচিবালয় বা অন্য দাপ্তরিক গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি, চালকের বেতনসহ সব খরচই সরকার বহন করে থাকে। শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নির্দিষ্ট সুবিধা ভাতার আওতায় থাকেন। গতকাল বিকেলে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথগ্রহণের পর থেকেই তিনি এই সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও প্রটোকলের আওতায় এসেছেন। আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর এই রাজকীয় প্রটোকলের আনুষ্ঠানিক সূচনা দৃশ্যমান হয়। এখন থেকে তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করবেন, যার জন্য এই সকল সুবিধা ও প্রটোকল তাকে সহায়তা দেবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন