বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন

জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, যখন তিনি একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। এর পর বছর তিনেকের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধাপে ধাপে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠলেন। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। এই ধারাবাহিক সফলতার ফলে পরে তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

অবশেষে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি জাতির কাছে নতুন একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি প্রথমবার বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে তফসিলের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও এই আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পান এবং আবারও নির্বাচন করে জয় লাভ করেন। এই হিসেবে তিনি তৃতীয়বার সংসদে যাওয়ার পথে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ব্যাপক ভোটে জয়ী হন স্বপন, পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট, ফলে প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে তিনি জয়ী হন। এই বিজয় দিয়ে দেড় যুগ পর আবারও এই আসনটি নতুন করে বিএনপির দখলে এল।

নির্বাচনী এলাকায় তার এই অর্জনবাসী ও দলীয় সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের পর সন্ধ্যায় এলাকার মানুষ মিষ্টির আয়োজন করে আনন্দ উদযাপন করেন, এবং স্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে—‘স্বপন ভাই, স্বপন ভাই’ বলে কর্তাব্যক্তিদের স্বাগত জানানো হয়।

জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে পুনরায় একই আসনে মনোনীত হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০১৮ সালে আবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। এভাবেই তিনি দীর্ঘ سنوات ধরে জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

সংসদে থাকাকালে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিতে কাজ করেছেন, যেমন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত কমিটিতে। রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও জহির উদ্দিন স্বপন সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি দুবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তার জন্য কাজ করে থাকেন বিশ্বব্যাপী আইনপ্রণেতাদের পর্যায়ে গঠিত ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’ এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন, যেমন রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা। তাঁর এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তাঁকে আরও যোগ্য করে তোলে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি তাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। দেশের কথা মাথায় রেখে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।’ তিনি আরও জানান, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য আমি তাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

পোস্টটি শেয়ার করুন