শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২

শিল্প, সাহিত্য ও শিক্ষায় রাজনীতির নিষেধাজ্ঞা: সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও সাহিত্যের চর্চাকে রাজনীতির আশ্রয় দেয়া কখনোই একটি সভ্য সমাজের শ্রেষ্ঠ পরিচয় নয়। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, একটি নৈতিক মানসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পকলার সকল শাখায় দেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এই অগ্রসর যাত্রায় তিনি দেশের গুণীজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান 최초ত এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একুশে পদক কেবল এক ধরনের সম্মাননা নয়, এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির একটি স্বীকৃতি। দেশের সুধীজন ও গবেষকদের অবদানকে সমাজের সামনে তুলে ধরার জন্য এই পদক চালু হয়েছিল। শুরুতে ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হলেও বর্তমানে এই সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়ে ১২টি হয়েছে, যা দেশের জন্য এক বিশাল অর্জন।

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাস আমাদের আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রাণের বছর। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম ও অধিকার প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। ৭৪ বছর পার হয়ে ৭৫ বছর অতিক্রমের এই সময়ে তিনি সকল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যে উৎকর্ষতা বাড়াতে সরকার সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অবশেষে, প্রধানমন্ত্রী এ বছর এঁরা একুশে পদকপ্রাপ্ত সব গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি গুণীজনদের সৃজনশীল জীবন দীপ্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি দেশের জনসাধারণের সঙ্গে গুণীজনদের জীবনের পরিচয় করিয়ে দিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা উচ্চস্বরে উল্লেখ করেন এবং এক সততা, মেধা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ার জন্য সবার সমবায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন