চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে ইলিশের পোনা, জাটকা ও অন্যান্য মাছের সংরক্ষণে দুটি মাসের জন্য মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে এবং এটি টানা দুই মাস অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার ১০০ জেলেকে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এই সময়জানে জেলেরা তাদের নৌকা ও মাছ ধরার জাল মেরামত, পরিষ্কার ও বিবেচনা করবেন। পাশাপাশি, বিরুদ্ধাচরণের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে এক থেকে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের শঙ্কা রয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে সরকার মার্চ ও এপ্রিলে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ও নদীতে জাটকা নিরাপদে বিচরণ নিশ্চিত করা। এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোরিটার এবং হাইমচর উপজেলার চরভেরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জাল ফেলা, মাছ ধরা, মাছ ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
দুই মাসের সময়জানে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জাটকা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নির্ধারিত ভিজিএফ চাল বিতরণ অব্যাহত থাকবে ও মা-জাটকা রক্ষায় কঠোর অভিযান চালানো হবে। অপরদিকে, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মতলব উত্তর এলাকার ৩০ কিলোমিটার নৌসীমায় জেলেদের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে জাটকা ধরলে, মৎস্য আইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও টাস্কফোর্সের সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, নদীতে নদীতে নামলেই আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করে নদীর সম্পদ রক্ষা করার আহ্বান জানান।





