রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফিরছে বাজারে

পবিত্র মাহে রমজানের নবম দিন রাজধানীর বাজারগুলোতে কিছুটা শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রশান্তির বার্তা বয়ে এনেছে। দেশের বিশ্বস্ত বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজধানীর নানা বাজারে সবজি, মাছ, মাংস ও ফলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়েছে, যা রোজার মরশুমে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রত্যাশা জেগে উঠছে।

বাজারে দেখা যায়, বেগুন, শসা, লেবু ও কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া, শীতকালীন সবজিগুলির মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। টম্যাটো, গাজর, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউসহ একাধিক সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নামেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজিও দাম কমে এসেছে, যেমন বরবটি কেজিতে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

কাঁচামরিচের দামও হ্রাস পায়, এখন কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলের বাজারে তেমনই স্বস্তি পড়েছে। ডজনপ্রতি লাল ডিমের দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, আর আধা কেজি কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ফলমূলের বাজারে অলিখিত সংকটের কারণে মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, কিছু কিছু ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মোটা দাগে, ডজনের মধ্যে কলা ১০০ টাকা, আনারস ৪০-৬০ টাকা, আর সবজি ও ফলের মধ্যে আমদানি করা মাল্টা ও আপেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মাল্টা এখন ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি, আর আপেল প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা। আঙুরের দাম সবুজ আঙুর ৪২০-৪৫০ টাকা এবং কালো আঙুর ৫৫০ টাকার কাছাকাছি। তরমুজের দামও উঠে এসেছে কেজিতে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও আস্তে আস্তে পরিস্থিতি ঠিক হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতা দামের ঊর্ধ্বগতি ঘটাচ্ছে, তবে আশার কথা হলো, পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি পর্যন্ত কমেছে। এতে করে মানুষের মাসে খরচ কিছুটা কমেছে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে, মাছের বাজারেও এ ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ইলিশের কেজি দাম ১০০০ টাকায় পৌঁছেছে, তবে অন্যান্য মাছের দামে কমতির Trends লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন, শিং মাছ, রুই, মাগুর, চিংড়ি, বোয়ালসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস কেজিতে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে; ডজনের মধ্যে লাল ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম হালি ৭০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ফলের বাজারেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। রোজার প্রাথমিক সপ্তাহে ফলের দাম বাড়লেও এখন কমে আসছে। কলা, মাল্টা, আনারসসহ অন্যান্য ফলের দাম যথাক্রমে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, যা রোজার সময়ের চাহিদাকে কিছুটা হলেও সামলে দিচ্ছে।

জামা এবং তরমুজের বাজারেও ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। তরমুজের দাম কেজিতে ৭০ থেকে ৯০ টাকা, যা আগের তুলনায় কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহের স্বাভাবিকতা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজার পুরোপুরি শান্ত হবে।

সর্ব মিলিয়ে, রমজানে বাজারের অস্থিরতা কেটেছে ধীরে ধীরে। সরকারের নজরদারি ও সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার কারণে এখন সাধারণ ক্রেতারা অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। তবে বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে আর সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন