আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা গত ডিসেম্বরের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, এই আসরে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নিবে, যেখানে মোট পুরস্কার অর্থ ধার্য করা হয়েছে ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। যদিও মোট ধার্য অর্থ বাড়লেও, ইউরোপীয় দেশগুলো এই আসরে অংশগ্রহণের সময় অনেক বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে, যার ফলে ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের এক যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মূল কারণ হলো, দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দলের জন্য অংশগ্রহণের অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাশাপাশি, নানা আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার ফলে অন্তত ১০টি ইউরোপীয় দেশের ফুটবল সংস্থা মনে করছে, এই আসরে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তারা।
নতুন ট্রাইব্যুতে, প্রত্যেক দলকে প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৯ মিলিয়ন ডলার এবং প্রস্তুতির জন্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, যদি কোনো দল গ্রুপ পর্বে কেবল ম্যাচ না জিতেও বিদায় নেবার মাধ্যমে এই অর্থ উপার্জন করতে পারে। তবে এবার ফিফা দলগুলোর জন্য দৈনিক খেতাব ভাতার পরিমাণ ৮৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর ফলে, যদি কোনো দল সেমিফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে গত আসরের তুলনায় তাদের আয় প্রায় পাঁচ লাখ ডলার কম হবে।
অন্যদিকে, মুদ্রার বিনিময় হার এর ফলে প্রকৃত অর্থের মান কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে, বিশাল ভৌগোলিক আকারের এই বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে যাতায়াত ও আবাসন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউএসএ-সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উচ্চ করের হার দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করছে।
ইউরোপের বেশ কিছু জাতীয় ফুটবল সংস্থা মনে করছে, বাড়তে থাকা খরচের কারণে tournament থেকে প্রত্যাশিত লাভ কমে যাবে। এমনকি, গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে গেলে বা শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে, দেশের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর ফলে, আসর শেষে বহু ইউরোপীয় দলই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি ভোগ করতে পারে বলে তাদের ধারণা।

