সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬, ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, ৮ মার্চ, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এই দিনে সব স্তরের নারীর অধিকার রক্ষা, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের সামাজিক সম্মান বাড়ানোর জন্য শুরু থেকেই চলে আসছে দীর্ঘ সংগ্রাম। এবারের প্রতিপাদ্য, “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”, আমাদের জন্য এক নতুন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বর্তমান প্রেক্ষেনে নারীর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নারীর ভূমিকা ও তার অধিকার আদায়ের ইতিহাস প্রাচীন। এর শুরু ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ থেকে, যখন নিউইয়র্কের এক সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা শ্রমের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা অমানবিক শ্রমের পরিবেশ এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন, যদিও পুলিশের দমন-পীড়ন সহ্য করতে হয়েছিল। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৮৬০ সালে গঠিত হয় ‘নারীশ্রমিক ইউনিয়ন’ এবং ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে দরিদ্র শ্রমিক নারীরা আবারও দাবিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলস্বরূপ অবশেষে নারীরা আট ঘণ্টা কাজের অধিকার অর্জন করেন।

বিশ্বে এই সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ প্রথম এ দিনটি পালনের সূচনা করে এবং ১৯৭৭ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর থেকে প্রতিটি বছর বিশ্বজুড়ে নারীর অবদান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি উদযাপন বা জোড়ালো আলোচনা mansions নয়, বরং এ দিনটি নারীর সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকারের প্রতীক। দেশের সব স্তরে নারী ও কন্যাদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা আলোচনা সভা, পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। সব কিছু মিলিয়ে, একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখতে হলে নারীর মেধা, শ্রম ও অধিকারকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে, এটাই আজকের দিনের মূল বার্তা ও অঙ্গীকার।

পোস্টটি শেয়ার করুন