বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিবাদে ও দেশটির চলমান সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রোববার রাজধানীতে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ আয়োজন করে। এই কর্মসূচি গতকাল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলটির নায়েবে আমির, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এক দৃঢ় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরানে হামলার অবিলম্বে বিরতি না দিলে জামায়াত আরও বৃহত্তর আন্দোলন চালানোর সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বক্তারা বলেছেন, ইরানের জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্বাধীনতার ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত আঘাত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা জাতিসংঘ ও ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই সংকটের সময় তারা কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিশ্বসংস্থাগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ সময় তারা ইউরোপ, আমেরিকা ও ইসরাইলের আক্রমণাত্মক নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংযম ও শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সমাবেশে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো্লানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বে এই ধরনের আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘকে শক্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় নিন্দা প্রস্তাব পাসের জন্য সরকারের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানের নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, পাশ্চাত্য ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোকে অযৌক্তিকভাবে অস্থিতিশীল করতে নিয়মিত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলে, খামেনির হত্যাকাণ্ড কেবল ইরানের জন্য নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ধরনের আঘাত। তাই এই সংকট সমাধানে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পেরিয়ে বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়। এই মিছিলে ঝান্ডা ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান, আর বক্তারা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।





