মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২

দেম্বেলের ফেরার দিনে ঘরের মাঠে পিএসজির বিধ্বস্ত পরাজয়

ফরাসি লিগে শিরোপা জয়ের কার্যক্রমটিকে আরও কঠিন ও নাটকীয় করে তুলল পিএসজির জন্য। শুক্রবার রাতে নিজেদের хозяয়ান পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ১-৩ গোলের হার মানলো মোনাকোর কাছে। এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ফলে দলটির পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান জোরদার করার সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে পিএসজির শিরোপা দৌড়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে লেন্স। যদি রবিবার লেন্স তাদের টেবিলের দ্বিতীয়স্থান থাকা মেটজকে হারাতে পারে, তবে পিএসজির পয়েন্টের ব্যবধান কেবল একে নেমে আসবে।

ম্যাচে পিএসজির জন্য একমাত্র ইতিবাচক ছিল গত মৌসুমের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর তিনি বদলি হিসেবে নামেন। দেম্বেলেকে মাঠে পেয়ে দলের আক্রমণভাগে কিছুটা প্রাণচঞ্চলতা ফিরে আসে, তবে তা যথেষ্ট ছিল না পরাজয় এড়াতে। শুরু থেকেই মোনাকো সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে এবং পিএসজির দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।

ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মোনাকোর মাঘনেস আকলিউশ। পিএসজির মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইর-এমেরির রক্ষণের ভুলের সুযোগ নেওয়া যোগ্যতার সঙ্গে বল জোড়া জড়ান তিনি। প্রথমার্ধে ১-০তে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অল্প সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি নামা আলেক্সান্ডার গোলোভিন। এরপর ম্যাচের ৭১ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার ডিফ্লেক্টেড শটে গোল করে পিএসজির আশার আলো জ্বেলে দেন। কিন্তু এই আনন্দও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; ৭৩ মিনিটে আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের দুর্দান্ত শটে মোনাকো ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।

এই জয়ের ফলে, ২৫ ম্যাচে মোট ৪০ পয়েন্ট নিয়ে মোনাকো উঠে এসেছে টেবিলের পঞ্চম স্থানে। অন্যদিকে, পিএসজি এখনও ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও শিরোপা দৌড়ে তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। লেন্স বর্তমানে ২৪ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যা চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। মৌসুমে পিএসজির এটি চতুর্থ পরাজয়। দ্রুতই আসন্ন চেলসির বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে পিএসজি। এর আগে এই দুর্দশাগ্রস্ত পারফরম্যান্স নিশ্চয় কোচ লুইস এনরিকের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায়, প্যারিসের ক্লাবটির জন্য এখন এক বড় খুব প্রাচীন শক্তি ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে।

পোস্টটি শেয়ার করুন