ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান বর্তমানে বেশ কয়েক মাস ধরে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর
একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়,
প্রথাগত পরিপাটি সাজ ছেড়ে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় এক সাধারণ শ্রমিকের কাজ করছেন
তিনি। বিষয়টি নিয়ে যখন নেটিজেনদের মধ্যে নানামুখী জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়, ঠিক
তখনই নিজের ফেসবুকে নতুন একটি প্রজেক্টের পোস্টার প্রকাশ করে সেই রহস্যের সমাধান
দেন এই চিত্রনায়ক।
আসলে সেই ভাইরাল ছবিটি ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের
অংশ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রাচীন ও জনপ্রিয় বাংলাদেশি মিডিয়া আউটলেট ‘ঠিকানা’-র প্রথম
অরিজিনাল শর্টফিল্ম হিসেবে এটি নির্মিত হয়েছে। সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা জন কবিরের
নিপুণ নির্দেশনায় আড়াই মিনিটের এই কন্টেন্টটি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ঠিকানা’-র
অফিশিয়াল পাতায় মুক্তি দেওয়া হয়। গত ৩৭ বছর ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি
প্রসারে কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস’ সিরিজের অংশ
হিসেবে এই কাজটি করেছেন তাঁরা।
শর্টফিল্মটির মূল প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে প্রবাসীদের কঠিন বাস্তব জীবনকে ঘিরে।
ঠিকানা কর্তৃপক্ষের মতে, বাইরের পৃথিবী থেকে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বিষয়টি যতোটা মোহনীয়
মনে হয়, একজন অভিবাসীর জীবনে তার বাস্তবতা অনেক বেশি শ্রমসাধ্য এবং ত্যাগের। সেখানে
থিতু হওয়ার দীর্ঘ পথে যে অদেখা সংগ্রাম ও অপ্রাপ্তির বেদনা থাকে, জায়েদ খানের
চরিত্রের মধ্য দিয়ে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক
জন কবির।
মুক্তির পরপরই মাত্র আড়াই মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে জায়েদ খানের প্রাণবন্ত অভিনয় ও
অভিব্যাক্তি দেখে অবাক হয়েছেন অনেকে। নেটিজেনদের মন্তব্য—অভিনয় জীবনের সেরা
পারফরম্যান্স দিয়েছেন জায়েদ এবং এমন মার্জিত ও গভীর চরিত্রে তাঁকে আগে কখনো দেখা
যায়নি। প্রচলিত ইমেজের বাইরে গিয়ে এক লড়াকু প্রবাসীর চরিত্রে তাঁর এই অভিষেক বিনোদন
অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ জায়েদ খানের
ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।





