মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরানের বিরুদ্ধে ‘লড়াইয়ে প্রস্তুত’ কুর্দিরা

ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত নিজেদের গোপন ঘাঁটিগুলো থেকে

এক শক্তিশালী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে কুর্দি বিদ্রোহীরা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান

চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, ইসলামি

প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তারা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদের

মতে, কোনো বহিঃশক্তির সমর্থন থাকুক বা না থাকুক, নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে

তারা পিছু হটবে না। তবে তারা আশা করছে, সম্মুখ যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই

ইরানের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের একটি বিশাল গণ-অভ্যুত্থান ঘটবে, যা তাদের অভিযানের

পথকে আরও সহজ করে তুলবে।

সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর মনোভাব ও বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেছেন কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ

পার্টির (পিজেএকে) অন্যতম জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ৩৯ বছর বয়সী রোকেন নেরাদা। সংবাদমাধ্যম

এএফপি-র সাথে আলাপকালে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন যে, যদি কুর্দি জনগণের ওপর কোনো ধরণের

আক্রমণ আসে, তবে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে

বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এই নেতার দাবি, কুর্দিদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং

মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের

সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবেন না।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, কুর্দিদের এই যুদ্ধের ডাক এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন

প্রশাসনের নীতিতে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রাথমিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের লড়াইকে উৎসাহিত করার ইঙ্গিত দিলেও সম্প্রতি

নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে এই

অঞ্চলে এমন কোনো বড় ধরণের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই

‘ইউ-টার্ন’ কুর্দিদের লক্ষ্যকে স্তিমিত করতে পারেনি। পিয়াজেক-সহ অন্যান্য বিদ্রোহী

গোষ্ঠীগুলোর গোপন আস্তানাগুলোতে এখন যুদ্ধের সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। বাঙ্কারের ভেতর

টেলিভিশন পর্দায় তেহরানের আকাশের কালো ধোঁয়ার দৃশ্য দেখার সময় যোদ্ধাদের চোখে-মুখে

এক ধরণের চূড়ান্ত সংঘাতের সংকল্প স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান সরকার ইতিপূর্বেই এসব কুর্দি গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত

করেছে। সীমান্ত অঞ্চলে বিদ্রোহী দমনের নামে তেহরানের বাহিনী প্রায়ই ড্রোন ও

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকে

কুর্দিদের অবস্থানের ওপর ইরানি হামলার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইরানের দাবি, এই

বিদ্রোহীরা পশ্চিমা দেশগুলোর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যদিও ইরাকি সরকারের নানামুখী

রাজনৈতিক চাপের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য তৎপরতা কিছুটা কম

ছিল, তবে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের এই সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নতুন করে যুদ্ধের

ময়দানে ফিরিয়ে আনছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন