আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বাস্থ্যবহুল এবং নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম।
এই সভায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। মূল আলোচনার বিষয় ছিল ঈদে যানজট কমানো, যাত্রী ভোগান্তি প্রতিরোধ ও টার্মিনালের আধুনিকায়ন।
নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশে অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা সকল অবৈধ দোকান এবং টিকেট কাউন্টারগুলো সময় নির্ধারিত নোটিশের মাধ্যমে অপসারণের জন্য জানা যায়, যাতে যানজট কমে ও যানবাহনের আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত বাস প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নির্দিষ্ট পথে টিকেট কাউন্টার বরাদ্দের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, বাসগুলোকে নির্ধারিত বাস-বে ব্যবহারে বাধ্য করা হবে, যেখানে যাত্রীরা মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য বাসে অপেক্ষা করতে পারবে।
যাত্রী সুবিধার্থে টার্মিনালে নতুন তথ্য কেন্দ্র ও মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পারা যায়।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে পরিবহন মালিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ না হয়। এছাড়া, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে সড়ক থেকে সরানোর দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, যা যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ঈদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিকরা একসাথে কাজ করবে। যাত্রীদের স্বস্তি দিতে এই সমন্বিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও জানান, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে নগর ভবনে আজ দ্বাদশ সভায় অর্থাৎ ডিএসসিসি পরিচালনা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ উদ্যোগে প্রশাসকের ভূমিকা প্রশংসা করেন।





