ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে দেশের সব অঞ্চলে প্রতি সপ্তাহে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে স্থানীয় প্রশাসন, যারা এই কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বুধবার (১১ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় দেশের জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছেন ও তাদের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরে ওই বার্তাটি তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয়; এটি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। তবে সবাই সচেতন থাকলে এ রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এই রোগগুলো ছড়ায়। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
তিনি আরও তুলে ধরেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়, তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এখন যে কোনও সময়, বিশেষ করে বছরের যেকোনো মৌসুমে ডেঙ্গুজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্ম নেয়, এবং মাত্র তিন দিন পানির জমা থাকলেই সেখানে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ হয়। ফলে ড্রেন, ডোবা, নর্দমা ও আশপাশের পানি জমে থাকার সমস্থ জায়গা পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি সকলকে পরামর্শ দেন, বাড়ির ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা বা ছাদে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে পানি বন্দ করে রাখা ট্যাংক ঢেকে রাখার এবং প্রতি সপ্তাহে বাড়ি ও আশপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কৌশলে তিনি বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ১৪ মার্চ থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের মূল নীতি হলো, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ বা প্রতিরোধই بهترین চিকিৎসা। তাই যেখানে ময়লা বা পানি জমে থাকতে পারে, সেখানে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নিজেরাই সচেতন হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।’
বার্তার শেষে তিনি দেশের মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে সবাইকে নিজেদের ও অন্যদের সুস্থ রাখার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।





