পাবনা শহর থেকে মাত্র কিছু কিলোমিটার পশ্চিমে, প্রমত্তা পদ্মার কোলঘেঁষে লুকানো আছে এক নিরিবিলি ও শান্তিপূর্ণ গ্রাম হিমায়েতপুর। সবুজে ঘেরা এই প্রান্তরটি স্নিগ্ধ ও প্রশান্তিময়, যেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক অবিস্মরণীয় পুণ্যভূমি—শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। এটি কেবল ধর্মপ্রাণ মানুষদের জন্য নয়, বরং এর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের জন্য পর্যটকদের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন যুগপুরুষোত্তম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র, একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, দার্শনিক এবং মানবধর্মের প্রচারক। তার স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রমে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে আধুনিক ও ধ্রুপদী স্থাপত্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। বিশেষ করে রাতের বেলায় যখন প্রধান মন্দিরটি রঙিন আলোকসজ্জায় সারাবিশ্বের চোখের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তখন তার সৌন্দর্য এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। গম্বুজের নকশা ও নিপুণ কারুকাজ করা দেওয়ালগুলো আলোকছটায় আধুনিকতার ছোঁয়া পেতেই দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে তোলে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই আশ্রমে ভিড় জমান, জীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি ভুলে শান্তির সন্ধানে। বিশাল খোলা প্রাঙ্গণ, সারি সারি গাছপালা আর স্নিগ্ধ পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্তির ঢেউয়ে ভাসিয়ে দেয়। স্থানীয়দের মতে, গোধূলি লগ্নে যখন আকাশের নীলিমা মন্দিরের চূড়াগুলোর ওপর ভেসে ওঠে, তখন এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এখানকার দর্শনার্থীরা বলছেন, এটি কেবল এক ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি জাতি-ধর্মের পার্থক্য ভুলে সম্প্রীতির এক দীপ্তিময় দৃষ্টান্ত।
এই ঐতিহ্যবাহী আশ্রমটি পাবনা জেলার অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় আশ্রমের পরিবেশ এখন পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও সুশৃঙ্খল। এতে করে পর্যটকদের জন্য আগমন আরও প্রোতোತ್ಸাহজনক হয়ে উঠেছে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতির মহাকাব্য হয়ে ওঠা এই আশ্রমটি পাবনার গৌরবে নতুন করে যোগ করেছে এক ঐতিহ্যবাহী পরিমাপক। আপনি যদি আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে আধ্যাত্মিক শান্তি ও নান্দনিকতার সন্ধান করতে চান, তবে হিমায়েতপুরের এই সৎসঙ্গ আশ্রম হতে পারে আপনার জন্য উপযুক্ত এক অনন্য গন্তব্য।





