মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬, ৩রা চৈত্র, ১৪৩২

৯৮তম অস্কার উঠল যাঁদের ঝুলিতে

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের

জমকালো আসর বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। এবারের আসরে

চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের উপস্থিতিতে জয়জয়কার ছিল পরিচালক পল থমাস

অ্যান্ডারসনের অ্যাকশন-থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর।

সিনেমাটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক এবং সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যসহ মোট ছয়টি

প্রধান বিভাগে অস্কার জয় করে এক অনন্য কীর্তি গড়েছে। বহু বছর ধরে দর্শক ও

সমালোচকদের পছন্দের তালিকায় থাকা অ্যান্ডারসন অবশেষে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর

প্রথম অস্কার হাতে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।

এবারের আসরে সেরা অভিনেতার শীর্ষ সম্মাননা জিতে নিয়েছেন জনপ্রিয় তারকা মাইকেল বি.

জর্ডান। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রে ‘স্মোক’ ও ‘স্ট্যাক’ নামক যমজ চরিত্রে তাঁর অসাধারণ ও

চ্যালেঞ্জিং অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাকাডেমি তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করে।

পুরস্কার গ্রহণের পর জর্ডানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই বিভাগের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী

ও বিশ্বখ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। অন্যদিকে, ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে

মূর্ত ও শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার নিজের ঝুলিতে ভরেছেন

জেসি বাকলি। এই দুই তারকার অসামান্য পারফরম্যান্স এবারের অস্কার আসরকে অন্য উচ্চতায়

নিয়ে গেছে।

সেরা পার্শ্ব অভিনেতা ও অভিনেত্রীর বিভাগেও ছিল বেশ চমক। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার

অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন

প্রবীণ অভিনেতা শন পেন। আর ‘ওয়েপনস’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর

সম্মাননা পেয়েছেন এমি ম্যাডিগান। এবারের আসরের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল সেরা

সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগ। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের জন্য অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও অস্কারের

দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম নারী সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন। তাঁর এই জয়

চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের অগ্রযাত্রার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের বিভাগে সেরা হয়েছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’। এটি কেবল সেরা

অ্যানিমেটেড ফিচার নয়, বরং ছবিটির ‘গোল্ডেন’ গানটির জন্য সেরা মৌলিক গানের অস্কারও

লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে নরওয়ের চলচ্চিত্র ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’

সেরার মুকুট পরেছে, যা বিশ্বমঞ্চে নরওয়েজিয়ান সিনেমার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

কারিগরি ও শৈল্পিক বিভাগে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রটি কস্টিউম ডিজাইন, মেকআপ ও

হেয়ারস্টাইলিং এবং প্রোডাকশন ডিজাইনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে

নিয়েছে। এছাড়া সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিভাগে আবারও নিজের দাপট দেখিয়েছে জেমস

ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

তথ্যচিত্র বিভাগে সেরা হয়েছে ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’ এবং সেরা সাউন্ডের

পুরস্কার জিতেছে রেসিং ড্রামা ‘এফ১’। লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম বিভাগে এবার দেখা

গেছে এক বিরল দৃশ্য, যেখানে ‘দ্য সিঙ্গার্স’ এবং ‘টু পিপল এক্সচেঞ্জিং সালাইভা’

যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে প্রয়াত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের

স্মরণে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে বিলি ক্রিস্টাল প্রখ্যাত নির্মাতা রব

রেইনারের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সব মিলিয়ে ৯৮তম অস্কারের এই আয়োজন ছিল

নতুনদের জয়গান, ইতিহাসের পুনর্লিখন এবং প্রতিভাবান শিল্পীদের শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য

মহোৎসব।

পোস্টটি শেয়ার করুন