শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬, ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২

মুক্তি পেল মহাকাশ অভিযানের গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’

পৃথিবী যখন চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে এবং সূর্যের আলো ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসছে, তখন

মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এক সাধারণ বিজ্ঞান শিক্ষকের মহাকাশ অভিযানের গল্প নিয়ে

নির্মিত হয়েছে সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। জনপ্রিয় লেখক

অ্যান্ডি উইয়ারের বহুল পঠিত উপন্যাস অবলম্বনে ফিল লর্ড এবং ক্রিস্টোফার মিলার

পরিচালিত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে

সমালোচক ও দর্শকদের উচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবির শুরুতেই দেখা যায় রাইল্যান্ড গ্রেস

(রায়ান গসলিং) একটি মহাকাশযানে সংজ্ঞাহীন অবস্থা থেকে জেগে ওঠেন। শুরুতে তিনি

স্মৃতিলোপের সমস্যায় ভুগলেও পরে বুঝতে পারেন যে, পৃথিবী থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে

একটি যানে তিনি একাই বেঁচে আছেন। তাঁর ওপর মূল দায়িত্ব ন্যস্ত হয় সূর্যকে

‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ নামক এক অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা

কমিয়ে মানবজাতিকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

চলচ্চিত্রটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র গ্রেসের সঙ্গে ‘রকি’ নামক

এক ভিনগ্রহী প্রাণীর অভূতপূর্ব বন্ধুত্ব। নির্মাতারা এই অদ্ভুত ও আবেগঘন

সম্পর্কটিকে পর্দায় অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে তাঁদের একে অপরকে

রক্ষার চেষ্টা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। রায়ান গসলিং তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়ের

মাধ্যমে একাকী মহাকাশচারীর প্রতিটি অভিব্যক্তি সার্থকতা দান করেছেন। পাশাপাশি

সান্ড্রা হুলারের সাবলীল অভিনয়, ড্যানিয়েল পেমবার্টনের আবহ সংগীত এবং গ্রেইগ

ফ্রেজারের চিত্রগ্রহণ সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গল্পের বুনন কিছুটা

জটিল হলেও মৌলিক কাহিনী ও নির্মাণশৈলীর কারণে বক্স অফিসে এটি শক্তিশালী অবস্থানে

থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন