, ,

বাংলাদেশের চ্যানেলে আইপিএল সম্প্রচারে আর কোনো বাধা নেই

বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও

আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। ভারতের এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি

বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো সরকারি বাধা

নেই। মূলত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই)

নির্দেশনায় কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে

কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবেই

আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব

গ্রহণের পর ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সেই অচলাবস্থা নিরসনের

উদ্যোগ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য

নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

জানিয়েছেন যে, সরকার খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিকে মিলিয়ে ফেলতে আগ্রহী নয়। তিনি

স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আইপিএল সম্প্রচারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন

তাদের কাছে আসেনি, তবে কোনো দেশি বা বিদেশি চ্যানেল যদি এটি সম্প্রচার করতে চায়,

সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে স্টার স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক

চ্যানেলের ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সরকারের এই নমনীয় অবস্থান মূলত দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের

একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। তিনি

জানিয়েছেন যে, আইপিএল সম্প্রচারের জট খুলতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে

আলোচনা করবেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাণিজ্যিক

প্রেক্ষাপটে আইপিএলের গুরুত্ব অপরিসীম এবং কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার

পক্ষপাতী নয় বর্তমান প্রশাসন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে বিধিনিষেধ আরোপ

করা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তার আর কোনো কার্যকারিতা নেই বলে মনে করছেন

নীতিনির্ধারকরা।

এদিকে, বাংলাদেশের কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনও (কোয়াব) আইপিএল সম্প্রচারের বিষয়ে

সবুজ সংকেত দিয়েছে। সংগঠনের সেক্রেটারি রেজাউল করিম লাবু জানিয়েছেন, স্টার স্পোর্টস

বা অন্য কোনো চ্যানেলে আইপিএল প্রদর্শনে তারা কোনো বাধা দেবেন না, কারণ সরকারের

পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে,

পূর্ববর্তী সরকারের দেওয়া নির্দেশনাবলী বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর নয় এবং বর্তমান

সরকার যদি সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তবে আইপিএল সম্প্রচার স্বাভাবিক নিয়মেই

চলবে। কেবল অপারেটরদের এই অবস্থান মাঠপর্যায়ে আইপিএল দেখার পথকে আরও সুগম করল।

আজ শনিবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স

হায়দরাবাদের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমেই শুরু হচ্ছে আইপিএলের এবারের আসর।

বাংলাদেশের দর্শকরা এখন কোনো প্রকার কারিগরি বা আইনি বাধা ছাড়াই স্টার স্পোর্টস ১ ও

২ সহ অন্যান্য নির্ধারিত চ্যানেলে সরাসরি খেলাটি উপভোগ করতে পারবেন। দীর্ঘ বিরতির

পর আইপিএল সম্প্রচারের এই জট খুলে যাওয়া দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও বাণিজ্যিক সম্প্রচার

ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে

আইপিএলের উন্মাদনা বাংলাদেশের ড্রয়িংরুমগুলোতে আবারও নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠবে বলে

ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন