রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২

কুয়েত বিমানবন্দরে কয়েক দফায় ড্রোন হামলা, রাডার ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে

লক্ষ্য করে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) কয়েক দফায় চালানো এই

নজিরবিহীন হামলায় বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,

আকাশপথে আসা একাধিক ড্রোন বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত

হানে, যার ফলে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। তবে এই বড় ধরনের হামলায়

এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে,

বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থায় বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি হলেও কোনো যাত্রী বা

বিমানকর্মী হতাহত হননি। হামলার পরপরই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে

বিঘ্নিত হয় এবং আকাশে অবস্থানরত বিমানগুলোকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং

রাডার ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,

বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের একটি অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যা

সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কুয়েতের এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি বারবার

শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর আগে গত বুধবারও এই

বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলার ফলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের

সূত্রপাত হয়েছিল, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘক্ষণ লড়াই করতে হয়।

কুয়েত সরকার এই ধারাবাহিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি প্রতিবেশী দেশ ইরানকে

দায়ী করে আসছে। তেহরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক ও সামরিক বিরোধের জের ধরে কুয়েতের

গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা

বিশ্লেষকরা।

বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কুয়েত জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা

হয়েছে। বিমানবন্দরের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে এবং আকাশ

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিহত

করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে

এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাডার ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল ও বাণিজ্যের

ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। সব মিলিয়ে এই ড্রোন হামলা কুয়েতের জাতীয়

নিরাপত্তাকে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন