মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস
গড়েছে। চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসীরা ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩.৩৩
বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।
এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স
এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে
৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গত
বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের
জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা গত
অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে
রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬৯ কোটি ডলার।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে
এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে কেউ কেউ জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে
থাকতে পারেন। আবার প্রবাসীরা রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে
রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। এসব কারণেই প্রবাসী আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্সে উচ্চ
প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর
অবস্থান নিয়েছে। আবার ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
এতে হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।
এদিকে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৯
বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী
রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার। গত ১৬ মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন
ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।





