সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রথমত, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, রাশিয়া থেকে এমওপি (MAP) সার আমদানির অনুমোদন। এই সিদ্ধান্তগুলো মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ের বৈঠক কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগীয় সভায় নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হলেও কাজের অগ্রগতি ও বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। মূলত, বিভিন্ন আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন, নতুন কাজ সংযুক্ত ও ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচের কারণে মোট ব্যয় ৬৭২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় পৌঁছায়, যা পূর্ববর্তী চুক্তির তুলনায় প্রায় ১৪.২২% বেশি। এই সংশোধিত বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত সংস্করণ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৫ মে অনুমোদন দিয়েছিল, এবং এর মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণগুলো হলো, জংশন ইয়ার্ডের সম্প্রসারণ, মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, ব্রিজ ও কালভার্টের উন্নয়ন, রিজিড পেভমেন্ট বিকল্পের ব্যবহার ও ১৭টি নতুন আইটেম সংযোজন। উল্লেখ্য, মোট ব্যয়ের বৃদ্ধি মূল চুক্তির তুলনায় প্রায় ১৪.২২ শতাংশ।
অপরদিকে, বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। এই সারগুলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে আমদানি করা হবে। আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা (মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার), যেখানে প্রতি টনের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩৬০.৫৩ ডলার। এ ধরনের পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায়, গত বছরের ২৪ জুলাই তা নবায়ন করা হয়েছিল।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসির মাধ্যমে মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার টন এমওপি সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, এর মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৫ হাজার টন। এখন পর্যন্ত, এই লক্ষ্য অনুযায়ী ৩ লাখ ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, বৈঠকে আরও তিনটি ক্রয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে।





