শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অ্যালবিসেলেস্তেদের গোল উৎসব: জাম্বিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারালো আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে এক শক্তিশালী ও মনোমুগ্ধকর জয় লাভ করেছেন। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তারা আফ্রিকার জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করেছে। ম্যাচের আগে নিজেদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়ায় কোচ স্কালোনি একাদশে আটটি বড় পরিবর্তন করেছেন, যাতে দল আরও শক্তিশালী ও আক্রমণে প্রাণবন্তভাবে নাচতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের ফলেই মাঠে আলবিসেলেস্তেরা নিজেদের খেতাবের প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছে, গোল উৎসবের মাধ্যমে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দর্শকদের উন্মাদনা ও চিৎকারের মধ্যেই আর্জেন্টিনা ঝাঁপিয়ে পড়ে জাম্বিয়াকে দমন করতে। দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ, তাঁর সূক্ষ্ম ফিনিশে শুরু হয় গোলের উৎসব। এরপর দলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসি ফুটবল মাঠে কিংবদন্তির মতো পুরো ৯০ মিনিট ধরে খেলেছেন। বিরতির আগে এক জাদুকরী গোল করেন এবং দ্বিগুণ করেন ব্যবধান, যা দর্শকদের জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। শুধু গোল করেই ক্ষান্ত না থেকে, সতীর্থদের জন্য সিনার মতো গোল করিয়েছেন তিনি, যা এই ম্যাচে তাঁর নেতৃত্বের প্রমাণ।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার দাপট অব্যাহত থাকে। রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ সেনানী নিকোলাস ওতামেন্দি দুর্দান্ত হেডে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। এরপর তরুণ ও দক্ষ লেফট-ব্যাক ভ্যালেন্টিন বার্কো জাতীয় দলে নিজের প্রতিভা দেখিয়ে আরেকটি গোল করেন। জাম্বিয়ার রক্ষণ ভেঙে ভেঙে যায়, ফলে ভুলের কারণে ডমিনিক চান্দা একটি আত্মঘাতী গোল করে বসেন, যা আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা বলের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, বলের নিয়ন্ত্রণে ৭৬ শতাংশ সময় ছিল তাদের দখলে। তারা মোট ৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ৫টি ছিল লক্ষ্যভেদী, অন্যদিকে জাম্বিয়া একেবারে সীমিত পরীক্ষা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস জোগানোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল। লিওনেল মেসির পুরো ম্যাচ খেলা এবং গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখা ভক্তদের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যদি তাই হয়, তবে ৫-০ গোলের এই দারুণ জয়ের মাধ্যমে তিনি ঘরের মাঠে নিজের শেষ ভুবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই জয়ের ফলে স্কালোনির দল এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, মনোবলও চাঙ্গা, এবং বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনায় প্রস্তুত।

পোস্টটি শেয়ার করুন