ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) গত আসরে মাত্র ১৪ বছর বয়সে অভিষেকের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। সেবার মাত্র সাত ম্যাচে একের পর এক ভয়ঙ্কর ব্যাটিং করে নিজের প্রতিভার জানান দিতে পারছিলেন। এবার যেন সেই পথেরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই তরুণ ক্রিকেটার নতুন ইতিহাস গড়লেন। চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে তিনি প্রধান নায়ক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। নিজের ১৫তম জন্মদিনের মাত্র তিন দিন পরই, চিপকের মাঠে মাত্র ১৫ বলে ঝড় তুলে ৫২ রান করে অভিজ্ঞান অর্জন করেন এই বিস্ময় বালক। এই অপরূপ ইনিংসের জন্য তিনি দ্রুততম ফিফটি করার নতুন রেকর্ড করেন।
রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের মধ্যে সংঘটিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক দল মাত্র ১২৭ রানে অলআউট হয়। এই ছোট লক্ষ্য ঠেকানোর জন্য শুরু থেকেই দাপুটে ব্যাটিং নিয়ে মাঠে নামেন সূর্যবংশী। তবে ইনিংস শুরুতেই কার্তিক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত শূন্য রানে জীবন পান তিনি, যা তার জন্য ছিল একটি বড় সান্তনা। এরপরই তিনি মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিরাট আক্রমণে; পাওয়ারপ্লে এর ছয় ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১৬ বলে ৫টি ছক্কা আর ৪টি চারের সাহায্যে ৫২ রান সংগ্রহ করেন। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ে রাজস্থান ১৩তম ওভারের প্রথম বলেই ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।
নিজের ইনিংসের শুরুতে সূর্যবংশী জানান, উইকেট একটু মন্থর থাকায় বলের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে পরে বল কিছুটা পুরনো হয়ে গেলে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে শট খেলতে শুরু করেন। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তিনি রাজস্থান দলের কোচ ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সবসময় পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলার স্বাধীনতা ও মনোবল দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত আইপিএল আসরে তিনি রাজস্থানের হয়ে মাত্র ৩৫ বলে লিগের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। চলতি আসরে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স বজায় রেখে তিনি নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন। বয়সের তুলনায় তার পরিণত ব্যাটিং এবং বিশ্বসেরা বোলারদের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষমতা তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে রাজস্থান দল তাদের আত্মবিশ্বাস আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা তাদের অচিরেই ম্যাচে আরও বড় সফলতা এনে দিতে পারে।





