সরকার জ্বালানি মজুতদারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নানামুখী কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। সারাদেশে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুত্রৎ। এই সংক্রান্ত আলোচনায় জানা গেছে, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কেনার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া, অবৈধভাবে তেল মজুতকারীদের ধরা পড়ার জন্য সরকার লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গতকাল সোমবার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই সব তথ্য প্রকাশিত হয়।
সোমবার (৩০ মার্চ), সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখনও behovের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনার প্রবণতা রয়েছে, কেউ কেউ বাড়তি তেল সংগ্রহ করে বাসায় মজুত করছেন যা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
অতিরিক্ত ভোগান্তি ও বাজারে অস্থিতিশীলতা এড়াতে সরকার বড় আকারে জ্বালানি তেল মজুত ও আমদানিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল আসছে, এবং রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি মার্কিন প্রশাসনের কাছে ঈদের পরদিন পাঠানো হয়, এবং এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে দেশের সরকার।
আলোচনায় আরও জানা গেছে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি, ভারতের মতো দেশের সঙ্গে ব্যবহার্য আওতায় যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা স্যাংশন ওয়েভার পাওয়ার চেষ্টা চলছে। ঈদের আগের রাতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠকেও এর বিষয়টি আলোচনা হয়, যেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়া থেকে অন্তত ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়। এই বিষয়টি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অবৈধ তেল মজুতকারীদের প্রতিরোধে সরকার এক লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পুরস্কার দেয়া হবে যারা নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে অবৈধ মজুতদারদের ধরিয়ে দেবে। গত সোমবার, সরকারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ উদ্যোগটি দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। অবৈধভাবে তেল সংগ্রহ ও পাচারকারীরা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো, সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এমন অনিয়ম প্রতিরোধ করা। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তথ্যদাতাদের গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আশ্বাস দিয়েছ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুরস্কারপ্রাপ্তির অর্থ ধাপে ধাপে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এতে তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে। পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিরা দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকলেও, তাদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা দেশের বাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।





