২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহড়া হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পৃথক প্রতিপক্ষের
মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও
আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা যেখানে নিজেদের ঘরের মাঠে আফ্রিকান দেশ
জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে, সেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের
মাটিতে লড়বে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত
দল ঘোষণার আগে এই ম্যাচ দুটিকে দুই দলের কোচের জন্যই খেলোয়াড় যাচাই-বাছাইয়ের শেষ বড়
সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা শিবিরে গত শনিবার মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় আসলেও
কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
বিশেষ করে ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য বজায় রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলের প্রাণভোমরা
লিওনেল মেসির উপস্থিতিতেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে না পারাটা স্কালোনির জন্য কিছুটা
উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাম্বিয়ার বিপক্ষে আগামীকালকের ম্যাচটি বিশ্বকাপের
মূল আসরের আগে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। আর্জেন্টাইন
সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, স্কালোনি এই ম্যাচে তাঁর স্কোয়াডের
গভীরতা পরীক্ষার লক্ষ্যে এমন অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারেন যারা গত ম্যাচে খেলার
সুযোগ পাননি।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া
যাচ্ছে। নিয়মিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বিশ্রাম দিয়ে পোস্টের নিচে জেরোনিমো
রুল্লিকে দেখা যেতে পারে। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে তাগলিয়াফিকো,
অগাস্টিন গিয়াই ও লুকাস মার্তিনেসের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যমাঠে লেয়ান্দ্রো
পারেদেস ও তরুণ তুর্কি গুলিয়ানো সিমিওনেদের ওপর ভরসা রাখতে পারেন কোচ। আক্রমণভাগে
অধিনায়ক লিওনেল মেসি শুরু থেকে খেলবেন কি না তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও, হুলিয়ান
আলভারেসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন ফ্লাকো লোপেজ। এছাড়া বদলি হিসেবে মাঠে নামার
অপেক্ষায় আছেন উদীয়মান তারকা ভ্যালেন্টিন বার্কো ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য বর্তমান সময়টা বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং যাচ্ছে। অভিজ্ঞ কোচ
কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে সেলেসাওরা এখনও তাদের চিরচেনা ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করছে।
গত ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারের পর মানসিকভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে
ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে ৭ জুন মিসরের বিপক্ষে তাদের আরেকটি ম্যাচ থাকলেও, চূড়ান্ত
দল গঠনের ক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটিকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন আনচেলোত্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না ব্রাজিল
শিবির। তবে ইনজুরির কারণে নিয়মিত ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ছিটকে যাওয়ায় এবং জাতীয় দলের
জার্সিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব আনচেলোত্তির কপালে
চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ক্রোয়েশিয়ার মতো সুশৃঙ্খল দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হলে ব্রাজিলের
আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ক্যাসেমিরোর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে তাঁর ক্লাবের ফর্ম জাতীয় দলেও ফিরিয়ে আনতে হবে। সব মিলিয়ে
আগামীকালকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ল্যাটিন
আমেরিকার দুই পরাশক্তিই চাইবে জয়ের মাধ্যমে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে এবং
ফুটবল বিশ্বকে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন
মাঠের লড়াইয়ে তাঁদের প্রিয় তারকাদের নৈপুণ্য দেখার জন্য।





