তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো প্রয়োজন যা রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে, পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং সার্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে।
বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার, এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।
প্রবৃদ্ধির তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, প্রকৃত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কর ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায়, যার কারণে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সীমিত হয়ে পড়ে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮৩ শতাংশের বেশি করের হার দিয়ে তামাকের উপর কর আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম উচ্চ। এই পরিস্থিতিতে শুধু কর বাড়ানো আর সম্ভব নয়, কারণ আকস্মিক কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে ও অবৈধ বাণিজ্যকে উস্কে দিচ্ছে।
আলোচকরা মনে করেন, রাজস্ব সংগ্রহ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় আবশ্যক। ভোক্তাদের কমমূল্যের পণ্য কিনতে প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বিষয়টি, যা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। তারা আরও মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে বহুস্তরীয় কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্বের পূর্বানুমান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে, ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক করের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতিতে রূপান্তর করা উচিত, যা বাস্তবায়ন সহজ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হবে।
অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার তদারকি জোরদার এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বক্তারা সতর্ক করেছেন, বর্তমানে কাঠামোয় বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ ব্যবসা বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।
সার্বিকভাবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুবিধা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত দরকার।





